সিডনী সোমবার, ১২ই এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র ১৪২৭


রেমিয়ানস অস্ট্রেলিয়ার ২১শে ফেব্রুয়ারি উদযাপন


প্রকাশিত:
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৬:৩৯

আপডেট:
১২ এপ্রিল ২০২১ ১২:৪৩

 

প্রবাসে অনেক খামতির একটি হচ্ছে মাতৃভাষায় যথেষ্ট কথা বলতে না পারা। তার পাশাপাশি নিজ সংস্কৃতির চর্চা, পোষাক-পরিচ্ছদে দেশীয় ঐতিহ্যকে ধারণ করা এবং কোন উৎসবে দেশীয় বাতাবরণের অভাবও পরিলক্ষিত হয় থেকে থেকে। আর সবচেয়ে দুষ্কর কর্মটি হলো পরবর্তী প্রজন্মকে নিজ ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও ফেলে আসা জন্মভূমির সাথে নিবিড়ভাবে পরিচিত করানো। আমরা সবাই এই বিষয়গুলি জানি। ইদানিং ভার্চুয়ালি অনেক সুযোগ হয়েছে অডিও, ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কাঙ্খিত ঘটনার সাথে পরিচিত হওয়ার। অনেকেই চেষ্টা করেন কোন উপলক্ষকে ঘিরে যেকোন উপায়ে সেই বিষয়গুলির মধ্যে অবগাহিত হতে। সামান্য করে হলেও দেশ-মাতৃকার কাছাকাছি যেতে।

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠন 'রেমিয়ানস অস্ট্রেলিয়া' তেমনি একটি উপলক্ষ্য তথা "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" ও "অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি"কে সামনে রেখে রেমিয়ান পরিবারের সদস্যদের জন্য সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে অনন্য একটি সম্মিলনের ব্যবস্থা করে। এবারের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছুটির দিন রবিবার হওয়ায় সকলের জন্যই তা খুব সহজ হয়েছিল উপস্থিত হতে। সমবেত কণ্ঠে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?' অমর এই গানটি দিয়েই শুরু হয় দিনের কার্যক্রম। দলবদ্ধভাবে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁরা শ্রদ্ধা জানান শহীদ স্মৃতির উদ্দেশ্যে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে আরম্ভ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্যকে ঘিরে এই আয়োজনের মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন Syed Nazmus Sakib সৈয়দ নাজমুস সাকিব।

প্রাণবন্ত সেই উপস্থাপন সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কিন্তু এরও আগে তারা আয়োজন করে রেমিয়ান পরিবারের শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে এক অভিনব চিত্রাঙ্কন। মনের আনন্দে শিশুরা এঁকেছে বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাঙালির গৌরবের চিহ্ন "শহীদ মিনার"। কি অদ্ভুত আনন্দদায়ী সেই পর্ব।

বাচ্চাদের আঁকবার সময় প্রতিটি মা-বাবাকে বলতে হয়েছে এর পটভূমি। কেউ কেউ ভিডিওতে শহীদ মিনারকে দেখিয়ে নতুন প্রজন্মকে অনুসন্ধিৎসু করে তুলেছে। ৩ থেকে ১৪ বছর বয়েসের  প্রায় ২৫ জন শিশু ছবিগুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জাব্বার, শফিউরসহ অগণিত শহীদদের আত্মত্যাগের গাঁথা এঁকে দিয়েছে মনের অজান্তেই। আমাদের বাধ্য করেছে অনন্য গৌরবের গল্পটুকু জানাতে। আমার ঘরেই অন্তত ১০টি সম্পূরক প্রশ্ন এসেছে ভাষা আন্দোলন, মাতৃভাষা ও প্রাণের বাংলাদেশকে ঘিরে! রেমিয়ানস অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ এমন একটি উপলক্ষকে আমাদের উপহার দেওয়ায়।

Sohail Khandaker খন্দকার মনজুর খালিদ সোহেলের সঞ্চালনায় সামান্য সাংগঠনিক কার্যক্রমের শেষে সকলের সাথে বহুদিন পর দেখা হওয়ার আনন্দে ভেসে গিয়েছিল রেমিয়ানদের দিনের বাকি অংশ। অভিভূত প্রেসিডেন্ট Ekram Chowdhury একরাম চৌধুরী সকলকে ধন্যবাদ জানান তাঁদের আহ্বানে সাড়া দেওয়ায়। সাধারণ সম্পাদক পলাশ বসাক Palash Basak কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য সাথে "আমি বাংলায় গান গাই" গানটি গেয়ে শোনান। সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট সাজ্জাদ সিদ্দিকী। দুপুর তিনটায় শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রেমিয়ানরা দেশীয় খাবার খেয়ে, জমপেশ আড্ডায় আর গান গেয়ে মুখরিত এবং স্মরণীয় করে রেখেছিলেন করোনাকালের পরবর্তী প্রথম এই আয়োজনকে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি ধন্যবাদ জানাই অগ্রজ রেমিয়ান সোলায়মান আশরাফী দেওয়ান দানি ভাইকে অনুপ্রেরণা প্রদান করার জন্য। নেপথ্যের কুশীলব সোনিয়া, নাজমুন, দিতি, নীলা, সিনথিয়া, রোমানা, মুনীর, শোয়েব, নাঈম, সাকিব, আজগর, বক্কর, শুভ, সোহেল, ফয়সাল ও পলাশ তোমরা সহযোগিতা করেছো জন্যই এমন একটি অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা আমাদের অর্জিত হলো। আমাদের সন্তানেরা জানলো আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা আর আলতাফ মাহমুদের সুর করা "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি?" সেই শ্রেষ্ঠ গানটি আর চোখের তারায় রেখে দিলো স্থপতি হামিদুর রহমানের শহীদ মিনার।

ধন্যবাদ রেমিয়ান অস্ট্রেলিয়া।

 

সালেহ জামি
লেখক ও সংগঠক
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top