সিডনী মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারী ২০২২, ৪ঠা মাঘ ১৪২৮


বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক সাধারণ সভা এবং বনভোজন ২০২১ : মাহমুদা রুনু


প্রকাশিত:
২১ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:০২

আপডেট:
১৮ জানুয়ারী ২০২২ ০৪:০৮

 

ইউনিভার্সিটিতে যখন আমরা বনভোজনে যেতাম সেটা সত্যিকারের বনভোজন হোত। খুব সকালে সবাই জড়ো হতাম বুয়েট প্রাংগনে। শীতের সকালই হোত সবসময়। বাসে যেতে হোত দুরে কোথাও। বাসে ওঠার সময় সবার হাতে একটা করে নাস্তার প্যাকেট দেয়া হোত, তাতে থাকতো বান কলা কমলা সিদ্ধ ডিম। একটা আলাদা ভ্যান যেতো সাথে যেটাতে বাবুর্চি ও সকাল দুপুর ও বিকেলের খাবারের সরন্জাম যেত।

বনভোজনের স্পটে পৌছে আবার খাওয়া এবারে চা সংগে সিংগারা ডালপুরি ইত্যাদি। বাবুর্চিরা ইটের চুলা বানিয়ে দুপুরের জন্য রান্নার আয়োজন করতো আর আমাদের চলতো আড্ডা খেলা গল্প হাসি। খুব মধুর সে সৃতি। বার বার বলতে ইচ্ছে হয়, কখনও পুরনো হয়না। সিডনিতে বুয়েট এলামনাই অষ্ট্রলিয়া তাদের বনভোজনের জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও COVID এর কারনে পেছাতে পেছাতে শেষমেষ ২১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে করে ফেল্লো বিরাট যজ্ঞ। মানে সরকারী সকল নিয়ম মেনে খুব কাটছাঁট করেও ৩০০ জনকে নিয়ে বনভোজন হল।

সেটা এই COVID পরবর্তি সময়ে একটা যজ্ঞ বৈকি! শহরের মিন্টো সাবার্বে একটা বিশাল স্পোর্ট সেন্টার ভাড়া করে সেখানেই করা গেল পিকনিক। খুব যত্ন করে প্রত্যেককেই প্রবেশদ্বারে দেয়া হোল প্যাকেট যাতে ছিলো ডালপুরি সিংগারা সেই পুরনো দিনের ধারাবাহিকতায়। পাশেই ছিল ইয়াবড় দুটো গরম চায়ের কেতলি।

 

খুব নিপুনভাবে সাজিয়ে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরী ছিলো। প্রথমেই বার্ষিক সাধারন সভা করা হোল। সভাপতি সানিয়া শারমিন ও সাধারন সম্পাদক সৌমেন চক্রবর্তী বুয়েট এলামনাই অষ্ট্রেলিয়ার গত বছরের সফল প্রোগ্রামের বিস্তারিত বিবরন দেন আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা বলেন। তারপর হাসি গল্প বন্ধুতা প্রানখুলে নি:শ্বাস নেয়া আপন জনকে কাছে পেলে যেমন হয় ঠিক তেমনি। বর্তমান কার্যকরী পরিষদের সবাই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সময় ও অনুষ্ঠান খুব চমৎকার ভাবে সকল উপস্থিত এলামনাই ও তাদের পরিবারের সকল সদস্যদের সম্পৃক্ত রেখেছিল যা সত্যি প্রশংসার দাবী রাখে।

 

যেমন মহিলাদের জন্য ছিল বাস্কেট বল খেলা আর পুরুষদের জন্য মিউজিকাল চেয়ার। বুঝতে পরছেন পাঠক মজাটা কতবেশী ছিলো ? ওদিকে বাচ্চাদের ফেস পেইন্টিং, ম্যাজিক শো, শো ব্যাগ প্রদান, বল ছোড়াছুড়ি সহ নানান আয়োজন। যথারিতি ভোজন পর্বে ছিলো বাংগালীর চির পছন্দের খাবার । ঠিক পরপরই শুরু হয়ে যায় সাংস্কৃতিক পর্ব । বুয়েট এলামনাই এর নিজেদের ছেলেমেয়ে পরিবারের পরিবেশনা।

সন্চালক ছিলো অসাধারন। কোন উপায়েই কেউ চুপচাপ বসে থাকবে সে সুযোগ ছিলো না। সন্চালকের সুনিপুণ কথায় প্রত্যুতপন্নতায় সবাইকেই অংশগ্রহন করতে হয়েছে কোন না কোন ভাবে।

এই যেমন গানের সুত্রধরে গান প্রতিযোগিতা, ষ্টেজ এ ব্যান্ড গানের দল, ধুমকেতু, গান করছে সেখানে দর্শকদের অংশগ্রহণ। খুব আনন্দের খুব চমকদার ছিলো শুরু থেকে শেষ অব্দি। বনে ভোজন না হয়ে বিশাল ছাদের নিচে আনন্দময় একটা দিন ছিলো মনে রাখার মতো।

বুয়েট এলামনাই অষ্ট্রলিয়া প্রবাসের এই বৈরী সময়ের মাঝেও এমন একটা আয়োজন করতে পেরেছে সেজন্য বর্তমান পরিষদ প্রশংসার দাবী রাখে। আগামীতে অনেক পরিকল্পনা আছে তাদের ঝুড়িঁতে। অষ্ট্রলিয়ার বুয়েট এলামনাই আপনারা দৃষ্টি জাগ্রত রাখুন ২০২২ এ পুরো বছরের বহুমুখী চমক নেবার ও দেবার জন্য। অবশ্যই যেগুলোর পরিকল্পনা আছে তা হোল - প্রকৌশল শাখার কারিগরী সেমিনার ওয়ার্কসপ থেকে বৈচিত্রময় বিচিত্রানুষ্ঠান ও নানাবিধ চ্যারিটি প্রোগ্রাম। যুগে যুগে নন্দিত হোক বুয়েট এলামনাই অষ্ট্রেলিয়া।

 


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top