সিডনী শুক্রবার, ২২শে অক্টোবর ২০২১, ৬ই কার্তিক ১৪২৮


রাজনীতিতে এখন তালিবান শব্দের নতুন চর্চা


প্রকাশিত:
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৩৯

আপডেট:
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৪৪

 

প্রভাত ফেরী: বিশ্ব-রাজনীতিতে নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে 'তালিবান' শব্দটি। ১৫ অগাস্ট আফগানিস্তানের কাবুল দখলের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা-সহ দেশের রাজনীতিতেও দেদার ব্যবহার হচ্ছে এই শব্দবদ্ধ।
তালিবান শব্দটি অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ১৯৯৬-এ প্রথমবার তাদের আফগানিস্তানের তখ্ত দখল করার যাত্রা ছিল রক্তক্ষয়ী। শুধু তাই নয়, তালিবানি শাসনে সে দেশে মানবাধিকার, বিশেষ করে নারীদের অধিকারকে টুঁটি টিপে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধচারণের ফল ছিল প্রাণদণ্ড। ফলে একতরফা শাসন বোঝাতে অচিরেই তালিবান শব্দ রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
বুধবার সন্ধ্যায় ভবানীপুরের ভোট প্রচারে যেমন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশে তালিবানি শাসন চালানোর অভিযোগ তুললেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের বিরুদ্ধে।
তাঁর হুঁশিয়ারি, 'দেখুন নরেন্দ্র মোদীজি, দেখুন অমিত শাহ ভাইয়াজি, আমরা দেশকে তালিবান বানাতে দেব না। ভারত ভারতই থাকবে। এখানে গান্ধীজি থাকবে, নেতাজি থাকবে, আবুল কালাম আজাদ, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও থাকবে। দেশকে টুকরো হতে দেব না, বাংলাকে ভাগ হতে দেব না।'
তবে এদিনই প্রথম নয়, সাম্প্রতিক অতীতে ত্রিপুরায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলার ইস্যুতে বিপ্লব দেব সরকারের বিরুদ্ধেও তালিবানি শাসন চালানোর অভিযোগে সরব হয়েছে জোড়াফুল শিবির। পাল্টা বঙ্গ বিজেপি আবার এ রাজ্যে তৃণমূল সরকারই তালিবানি শাসন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে একাধিকবার। মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে থেকে বঙ্গ-বিজেপির নতুন সভাপতি, তৃণমূল থেকে সিপিএম, বিজেপি থেকে কংগ্রেস- কার্যত 'ফ্যাসিস্ত' শব্দের বদলে এখন পয়লা নম্বরে ঠাঁই পাচ্ছে আফগান শাসকেরা!
মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজ্য বিজেপি সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন, 'বিধানসভা ভোটের পর রাজ্যে একের পর এক বিজেপি কর্মী খুন হচ্ছেন। এখানে তৃণমূলের নেতৃত্ব তালিবানি শাসন চলছে। তালিবানি শাসন থেকে রাজ্যকে মুক্ত করতেই হবে।' পাল্টা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেছেন, 'সারা দেশে বিজেপির নেতৃত্বে তালিবানি সরকার চলছে। বাংলায় সরকার গড়তে না-পেরে হতাশা থেকে ওরা এই সব কথা বলছে।'
সুকান্তের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে জাতীয় রাজনীতি থেকেও। বুধবার রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে সরাসরি নিশানা করেছেন শিবসেনার অন্যতম শীর্ষ নেতা সঞ্জয় রাউত৷ তিনি বলেন, 'স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে এমন ভাষা প্রয়োগকে অশালীনতা হিসেবে গণ্য করা উচিত৷ ভুলে গেলে চলবে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে জয়ী করেছে বাংলার জনতা৷' তাঁর প্রশ্ন, 'তা হলে কি বিজেপি এ বার বাংলার অধিবাসীদের তালিবান বলছে?' সমাজবাদী পার্টিও এই ইস্যুতে মমতার পাশেই থাকছে৷ দলের নেতা উদয়বীর সিংয়ের প্রতিক্রিয়া, 'যে রাজ্যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, সেখানকার সরকার ও জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা যে কোনও রাজনৈতিক দলের কর্তব্য৷ আসলে বিজেপি নেতাদের মানসিকতাই তালিবানদের মতো।'
মহারাষ্ট্রেও 'তালিবান' মন্তব্যে শিবসেনা-কংগ্রেসের শাসক জোটের সঙ্গে বিরোধী বিজেপির তাল ঠোকাঠুকি শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নারায়ণ রানের গ্রেপ্তারি নিয়ে দু'পক্ষের বচসা শুরু হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক জিটি রবি উদ্ধব ঠাকরের সরকারকে তালিবানি সরকার বলে অভিযোগ করেন। উদ্ধবও কেন্দ্রীয় সরকারকে তালিবানি সরকার বলে পাল্টা তোপ দাগেন।
এরই মধ্যে আবার বচসা বেঁধে গিয়েছে শিবসেনার সঙ্গে কবি জাভেদ আখতারের। জাভেদ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে 'তালিবানের দ্বারা অনুপ্রাণিত' বলে মন্তব্য করেন। শিবসেনার মুখপত্র 'সামনা' পত্রিকার সম্পাদকীয়তে জাভেদের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, হিন্দুত্বের সঙ্গে তালিবানকে মেলানো হিন্দু সংস্কৃতিকে অসম্মান করা। পাহাড়-পারের দেশে সরকার গড়তে তারা যতই নাকানিচোবানি খাক, 'তালিবান' কিন্তু এ দেশে বহাল তবিয়তেই রয়েছে।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top