সিডনী সোমবার, ১২ই এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র ১৪২৭

বাসাবাড়ি : ডঃ গৌতম সরকার


প্রকাশিত:
৮ এপ্রিল ২০২১ ১২:৪৩

আপডেট:
১২ এপ্রিল ২০২১ ১৩:৩৩

 

দরজা দিয়ে ঢুকেই অপ্রশস্ত শ্যাওলা পড়া উঠোন। বাঁদিকে কুয়ো, কুয়োর পাশেই তিন ধাপ সিঁড়ি উঠে এজমালি পায়খানা। একটু এগিয়ে ঢাকা বারান্দা, যার এদিক থেকে ঢুকে বাঁদিকে ঠাকুরের রান্নাঘর পেরিয়ে সোজা ছাদে ওঠার সিঁড়ি। ছাদে একটা ছোট্ট ঘর। ঢাকা বারান্দার বাইরে ডানদিকে পাশাপাশি তিনটে ঘর। মাঝের লাল টুকটুকে মেঝের ঘরটি আমার বাবার বাসা।

জায়গাটা আধাশহর হলেও, আমার চোখে এটাই দিল্লী-বোম্বাই-কলকাতা সব। এখানে ঘরের পাশেই পিচ রাস্তা, মুহুর্মুহু বাস-ট্রাক-ট্যাক্সি ছুটছে। আরেকটু দূরের রেলস্টেশন থেকে আসা ট্রেনের আওয়াজ বাসায় বসেই শুনতে পাওয়া যায়। আমাদের গ্রামে এসব কল্পনাও করা যায়না। বাড়ি থেকে বাস রাস্তার দূরত্ব প্রায় দু-কিলোমিটার। হেঁটে, নয় সাইকেলে যেতে হয়। সারা গ্রামে দোকান বলতে দুটো মুদিখানা দোকান। আর এখানে ঘর থেকে বেরোলেই ঝাঁ চকচকে দোকান শত সম্ভার সাজিয়ে বসে আছে।

আমি এখানে থাকিনা। এটা আমার বাবার বাসা। বাবা এখানে এক ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। আমি মায়ের সাথে মাঝে মাঝে আসি। তবে প্রতিবারই যে মায়ের সাথে আসার সুযোগ পাই তা নয়, মা আমাদের ভাইবোনদের বদলে বদলে আনে। এবারে আমার পরীক্ষা হয়ে যাওয়াতে মা ফিরে গেলেও আমি রয়ে গেছি।

জীবনে এত স্বাধীনতা আগে কখনও পাইনি। বাবা সকালে ফ্যাক্টরিতে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমি পুরোপুরি স্বাধীন। আমি এখন যা খুশি করতে পারি। যদিও আশপাশের সকলেই আমাকে চোখে চোখে রাখে বুঝি, বাবা বোধহয় আমাকে লুকিয়ে সবাইকে আমার পাহারাদার করে গেছে। সকালে খাবার খেয়ে টুক করে বেরোতে যাবো, ঠিক তখনই ঠাকুর তার ঘর থেকে হাঁক পারে,

- হে পিলা, কুআড়ে যাউছ?

আমি কোনও উত্তর না দিয়ে দরজা পেরিয়ে বেরোতেই, ঠাকুর দৌড়ে ঘর ছেড়ে এসে চেঁচায়,
- তমর বাবা মোতে কহিকরি যাইছন্তি, দূরকু কউঠি যিবনি

 আমি বাধ্য হয়ে বলি, বীরেন কাকুর দোকানে যাচ্ছি ৷ বীরেন কাকুর দোকান বড়রাস্তার ওপর, ওই দোকানে আমার গতায়াত সম্পর্কে ঠাকুর ওয়াকিবহাল, তাই বারণ করতে পারলোনা। শুধু বলল,
- তেণু এই দোকানরে বসি রহিব৷ যমা রাস্তা পার করিবনি৷ শীঘ্র ফেরি যাই গা ধোই পড়িব৷ আজি তব পাঁই হঁস অন্ডা তরকারি করিছি৷
আমি এগিয়ে যাই।

রাস্তাটা সেখানে গিয়ে বড়রাস্তায় পড়েছে, ঠিক সেখানে বীরেন কাকুর ছোট্ট বইয়ের দোকান। দোকান বলতে পাকা কিছু নয়। একটা চার বাই ছয় চৌকিতে বই সাজানো। পাশে একটা কাঠের তাকও আছে। মাথার ওপর প্লাস্টিকের ছাউনি। খবরের কাগজ, পত্রপত্রিকা, স্কুলের বই আর গল্প বই বিক্রি হয়। এটা আমার খুব প্রিয় একটা জায়গা। আমি গল্প বই পড়তে খুব ভালোবাসি। তবে এখন আমার দোকানে গেলে হবেনা। আমি দূর থেকে দেখি বীরেনকাকু কি করছে ! সকালবেলায় বীরেনকাকুর দোকানে খালি খবরের কাগজই বিক্রি হয়, আর বীরেনকাকু সারা সকাল দোকানে বসে একটা কাগজ পড়ে সময় কাটায়। তবে বিকেলবেলা বেশ ভিড় হয়৷ তখন আমি কাকুর হাতে হাতে কাজ এগিয়ে দিই৷ এখন আমার অন্য অ্যাডভেঞ্চার। সেটা করতে গেলে বীরেনকাকুকে লুকিয়ে বড় রাস্তা পেরিয়ে ওপারে যেতে হবে। কারণ কাকুও আমার এক পাহারাদার। বীরেনকাকু কাগজ পড়ছে, কিন্তু পাশ দিয়ে গেলে চোখ তুললেই দেখতে পাবে। একটু অপেক্ষা করি, কিছুক্ষণ পর একজন কাগজ কিনতে এলে কাকু ব্যস্ত হওয়ায় আমি এক ছুট্টে রাস্তা পেরিয়ে এপারে চলে আসি৷

এপাশের রাস্তাটা অনেক সরু, সবসময় ভিজে ভিজে থাকে, আর সারা রাস্তা জুড়ে মোষের গোবর ছড়িয়ে থাকে। রাস্তার পাশে পরপর মোষের খাটাল। সারাদিন ধরে মোষগুলো খুঁটিতে বাঁধা থাকে, আর চোখ বুজে জাবর কাটে। এগুলোকে দেখভাল করার জন্য এক একটা হিন্দুস্তানি পরিবার আছে- স্বামী--স্ত্রী আর অনেকগুলো করে বাচ্ছা। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে পশুগুলোর তদবির করে, আর বাচ্ছাগুলো ওই নোংরার মধ্যে সারাদিন ধরে খেলা করে। এদের পড়াশোনা করতে হয় বলে মনে হয়না। বুকের মধ্যে একটু একটু হিংসে হয়। আজকে এদিকে আসার উদ্দেশ্য অন্য। কালকে বিকেলে যখন এপথে এসেছিলাম তখন একটা খাটালের কাকু চোখ বুজে দেহাতি গান গাইছিল। কৌতূহলের বশে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম, সামনের মাটিতে খেলে বেড়াচ্ছিল একটা কালোকেলে নাদুসনুদুস বাচ্চা, ঠিক কেষ্ট ঠাকুরের মতো। গানের থেকে বাচ্চাটা আমায় বেশি টেনেছিল, বাচ্চাটি হাসি হাসি মুখে আমার দিকে তাকাচ্ছিল, আর হাত দিয়ে মাটি খাচ্ছিল। আমি ছুটে গিয়ে ওর হাত থেকে মাটি ফেলে দিলাম। ব্যাপারটা পছন্দ না হওয়ায় জোরে কেঁদে উঠল, সেই মুহূর্তে ঝুপড়ি থেকে একজন মহিলা বেরিয়ে এলো, বুঝলাম বাচ্চাটির মা। হাতে একটা এনামেলের থালায় ছাতুর এক বিশাল মন্ড। আমাকে কিছুটা কৌতূহলের চোখে দেখে জিজ্ঞাসা করল,

- খোঁকাবাবু, তুমহার ঘর কোথায়?

আমি লাজুক মুখে কিছু না বলে পায়ের নখ দিয়ে মাটি খুঁড়তে লাগলাম। হিন্দুস্তানি লোকটাও গান থামিয়ে আমায় দেখতে পেল, সেও প্রশ্ন করে,

- তুমি কার বেটা আছো? ঘর কাঁহা !

আমি মুখে কিছু না বলে হাত দিয়ে পিছন দিকটা দেখিয়ে দিই। লোকটি একগাল হাসল। হাসার সময় চোখগুলো এত ছোট হয়ে গেল, মনে হল মুহূর্তের মধ্যে চোখ ভ্যানিশ ! একজোড়া মোটা গোঁফ গাল ছাড়িয়ে কানের দিকে বেঁকে গেছে। ওর বউ ততক্ষণ ছাতুর থালাটা লোকটার হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। এবার আমার দিকে চোখ নাচিয়ে জিজ্ঞাসা করে,

- খাবে খোঁকা বাবু ! ছাতু খুব আচ্ছা চিজ আছে।

আমি থালার দিকে তাকিয়ে দেখি, ওই বিশাল মন্ডের ওপর তিনটে চারটে মোটা মোটা কাঁচা লঙ্কা গোঁজা। আমি কিছু না বলে এক দৌড়ে বাসায় ফিরে এসেছিলাম। আজ আবার সেখানে যাচ্ছি, না ছাতুমাখার টানে নয়, ওইকেষ্ট ঠাকুর বাচ্ছাটাকে আবার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।

দুপুরে ফিরে ঠাকুরের হাতের প্রচুর মশলা দেওয়া ডিমের ডালনা দিয়ে ভাত খেয়ে ছাদে গেলাম। ছাদে একটা ছোট্ট ঘর আছে, এখানে প্রদীপ্তকাকু থাকে। কাকু বাবার অফিসেই কাজ করে। সন্ধ্যার পর সারাটা সময় আমার কাকুর সঙ্গে কাটে। কাকু অফিস থেকে ফিরে নিচ থেকেই আমার নাম ধরে হাঁক পারে, আর আমি দুড়দাড় করতে করতে সিঁড়ি টপকে কাকুর ঘরে পৌঁছে যাই। কাকু ঘরে ফিরে ব্যাগ রেখে জামাকাপড় ছেড়ে একটা তোয়ালে পরে নেয়, তারপর আমরা দুজনে ছাদে গিয়ে বসি। ছাদের ঠান্ডা হাওয়ায় কাকু ঘাম শুকায়, আর গল্প করে। কখনও নিজের দেশের কথা বলে, ছেলেমেয়ের গল্প বলে, পয়লা মাঘ তাদের গ্রামে যে মেলাটা হয় তার কথা বলে, ছোট্ট একটা নদী আছে কাকুদের গ্রামে, নাম মৈথিলী। ছোটবেলায় কাকু সাঁতরে সেটা এপার-ওপার করতো। আরও কত কি ! আবার কখনও আমার কথা জিজ্ঞেস করে, আমার গ্রাম, আমার স্কুল, আমার যেসব ভাইবোনকে দেখেনি তাদের কথা, আমাদের জমিদার বংশের পুরোনো কথা। আমি সবকথার উত্তর দিতে পারতাম না, বলতাম, বাবা জানে। কাকু মৃদু হাসত। তারপর ঘাম শুকিয়ে গেলে কাকু বালতি, মগ আর গন্ধ সাবান নিয়ে নিচের কুয়োপাড়ে আসত স্নান করতে। এই সাবানটার গন্ধ আমার ভীষণ ভালো লাগে। স্নানের পর আবার ওপরে পৌঁছে কাকুর কোল ঘেঁসে শুয়ে যখন কাকুর কাছে গান শিখতাম তখন সেই গন্ধটা পেতাম। সেসব অদ্ভুত গান, সাধারণ বাজার চলতি গান নয়। সেই গানগুলো চিৎকার করে আমরা দুজনে গাইতাম। ছাদ পেরিয়ে কারোর বাড়ি সে সুর-অসুর পৌঁছত কিনা জানিনা, তবে কোনোদিন কেউ অভিযোগ করেনি। কাকু নিচে স্নান করতে নামলে আমি টুক করে বাসায় গিয়ে বাবার দেওয়া দুধ বা হরলিক্স খেয়ে আবার দৌড়ে ছাদে চলে আসতাম।

দুপুরে ছাদ নির্জন, কেউ কোত্থাও নেই, এমনকি কাকুর ঘরের মাথায় যে কাকগুলো সকালবেলা চিল চিৎকার করে মাথা খারাপ করে দেয়, আর ঠাকুরের শুকোতে দেওয়া বড়ির ওপর যখন তখন ছোঁ মারে, সেগুলোও দুপুরের খটখটে রোদের মধ্যে বাসার ভেতর সেঁদিয়েছে। আমি একটু ছায়া খুঁজে পাঁচিলের ওপর দুদিকে পা ঝুলিয়ে বসি। আমার ভয় করে না, গ্রামের বাড়িতে আরও উঁচু ছাদের আলসেতে বসে আমি দুলে দুলে স্কুলের পড়া মুখস্থ করি। বসার কিছুক্ষণ পর পাশের বাড়ির জানলা দিয়ে একটা মুখ উঁকি দিয়ে আবার লুকিয়ে পড়ল। আমি চেয়ে থাকি, আবার উঁকি দিতে গেলে চোখাচুখি হল। মেয়েটি আমাকে জিভ ভেংচে আমার লুকিয়ে পড়ে। আমার খুব রাগ হল, আমি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে গম্ভীর হয়ে বসে থাকি। কিছুক্ষণ পর জানলা থেকে গলা ভেসে আসে, এই তোমার নাম কি? উত্তর দেবনা ভেবেও নামটা বলি। এবার তাকাতেই মেয়েটি হেসে ফেলল। হাসলে ওর ওপরের পাটির দুটো গজ দাঁত চোখে পড়ল। কিছুক্ষণ গল্প করার পর আবার উধাও, আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে আমাকে অবাক করে ও আমাদের ছাদে এসে উপস্থিত।

আমি জিজ্ঞাসা করি,

- তুমি এলে, তোমার মা বকবে না?
ও জানাল, মা এখন ঘুমোচ্ছে।

আমরা গল্প করতে লাগলাম। ও এটা সেটা জিজ্ঞাসা করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর আমার অস্বস্তি হতে লাগল, ওর কথাগুলো কেমন অন্যরকম। গ্রামে আমার বন্ধুবান্ধবদের সাথে যেসব গল্প হয়, ঠিক সেরকম নয়। ও গড়গড় করে বড়দের অনেক কথা বলে যেতে লাগল, ওর বাবা মায়ের কথা, ওর এক বড় দিদির কথা। আমার মনে হল, কথাগুলো বলে ও ঠিক করছেনা, এসব বড়দের কথা ছোটদের বলতে নেই। গল্প করতে করতে ও আমার দিকে আরোও ঘেঁসে বসল , আমার হাত নিয়ে খেলতে লাগল। আমার খুব অস্বস্তি হওয়াতে আমি মিথ্যে করে ঘুম পেয়েছে বলে ঘরে চলে এলাম। রাত্রে বাবার পাশে শুয়ে মেয়েটির বলা সব কথা বলে বাবাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এগুলো কি অসভ্য কথা বাবা ! বাবা শুনে গম্ভীর গলায় বলল, কাল থেকে দুপুরে আর ছাদে যাবেনা। আমি ঠাকুরকে বলে যাবো, দুপুরে তুমি ওর কাছে শুয়ে রামায়ণ-মহাভারতের গল্প শুনো।

আমাদের বাসাবাড়িতেই সামনের দিকে বীরেনকাকুর একটা একচিলতে ঘর আছে, সেখানে বইয়ের স্টক থাকে। তার মধ্যে পাতা একটা বেঞ্চে কাকু দুপুরবেলায় ঘন্টাদুয়েক ঘুমিয়ে নেয়। বিকালে যখন আবার দোকান খোলে তখন আমি সঙ্গে যাই। বিকেল থেকেই কাকুর দোকানে ভিড় বাড়তে থাকে৷ আমিও খদ্দেরদের বই এগিয়ে দিই, কেনা বই কাপড়ের প্যাকেটে ভরে দিই। দোকানের কোনো বই শেষ হয়ে গেলে কাকু আমাকে চাবি দিয়ে দেয়, আমি বইঘর থেকে সেই বই নিয়ে আসি। আর অবসরে বসে বসে বই পড়ি। বাবা ফ্যাক্টরি থেকে ফেরার পথে আমাকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফেরে, রাত্রে পড়ার জন্য রোজ একেকটা নতুন বই নিয়ে আসি।

রাত্রের রান্না বাবা নিজের হাতে করে। আমি বসে বসে বাবার আটা মাখা, আনাজ কোটা, রুটি সেকা দেখতে দেখতে সারাদিন যা যা ঘটেছে বলে চলি। বাবা কাজ করতে করতে হ্যাঁ, হুঁ করে, মাঝেসাঝে এক আধটা প্রশ্ন বা মন্তব্য করে। রান্না হয়ে গেলে বাবা কুয়োপাড়ে গিয়ে গন্ধসাবান মেখে স্নান করে। আমি হ্যারিকেন নিয়ে একটু দূরে বসে থাকি। ঘরে ফিরে খেয়েদেয়ে দুজনে শুয়ে পড়ি। বাবা সারাদিন খাটাখাটুনির পর বেশিক্ষণ জেগে থাকতে পারেনা, কিছুক্ষণ পরই বাবার নাক ডাকার শব্দ আসে। সেই সব শব্দ বিভিন্ন তরঙ্গে বাজে। আমি সেই শব্দতরঙ্গের মধ্যে সুর খোঁজার চেষ্টা করি। বাবাকে খুব ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। বাবাকে পাশবালিশ করে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ি।

সুখের টগবগে দিনগুলো ঘোড়ার মতো দৌড়তে দৌড়তে একটা সময় শেষ হয়ে গেল৷ স্কুল খোলার সময় হয়ে এল৷ এক আকাশ মনখারাপ নিয়ে বাবার হাত ধরে বাসাবাড়িকে টাটা করে ফিরে আসতে হল৷ আমাদের গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার দূর দিয়ে বাসরাস্তা গেছে৷ বাস থেকে নেমে জলা-জমি, মাঠ-ঘাট, তাঁতি পাড়া, নাপিত পাড়া পেরিয়ে মণ্ডলদের জোড়া পুকুর৷ সেখান থেকে বাঁদিকে ঘুরলেই আমাদের বড়বাড়ির সিংদুয়ার চোখে পড়ে৷ রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে টের পাচ্ছিলাম কতদিন এই সবকিছু ছেড়ে ছিলাম! মনে হল বহুদিন প্রিয়জনের কাছ থেকে দূরে থেকে আবার তার নিভৃত আশ্রয়ে ফিরে এলাম৷ বাড়ির গেট দেখতে পেয়েই মায়ের জন্য একটা তীব্র কষ্ট আমায় অস্থির করে তুলল, বাবার হাত ছেড়ে প্রাণপনে বাড়ির দিকে দৌড় লাগালাম।

 

গৌতম সরকার
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, যোগমায়া দেবী কলেজ, কলকাতা

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top