সিডনী শুক্রবার, ৩০শে জুলাই ২০২১, ১৫ই শ্রাবণ ১৪২৮

বাবা এক বটবৃক্ষ : এস ডি সুব্রত


প্রকাশিত:
২১ জুন ২০২১ ১৪:৪৯

আপডেট:
৩০ জুলাই ২০২১ ১৬:৪৩

 

পরিবার হলো সমাজ বা রাষ্ট্রের একটি ক্ষুদ্র ইউনিট। পরিবারের সুখ দুঃখ আশা ভরসার যিনি কেন্দ্রস্থল তিনি হলেন বাবা। পাহাড়ের মতো স্থির থেকে বাবা কিভাবে মাথায় সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে নিজের সুখের কথা না ভেবে সন্তানকে তিলে তিলে গড়ে তুলতে সহায়তা করেন তা সবারই জানা। বাবা হলেন তিনি যিনি একা খেতে গেলে কমদামি হোটেলের কমদামি খাবার বেছে নেন নিজের জন্য, কোথাও একা গেলে হেঁটে কিংবা বাসে চড়েন পয়সা বাঁচানোর জন্য।

অন্যদিকে স্ত্রী অথবা সন্তানদেরকে  নিয়ে বাইরে খেতে গেলে যান সিএনজি কিংবা প্রাইভেট কার ভাড়া করে, খাবার খাওয়ান ভাল হোটৈলে ভাল খাবার বেছে বেছে। যে মানুষটা  নিজের জন্য কাপড় কিনতে গেলে হয়ে উঠেন ভীষণ কিপটে অথচ স্ত্রী অথবা সন্তানদের জন্য কাপড় কিনতে গেলে হয়ে উঠেন বেহিসেবি তিনি হলেন বাবা। পৃথিবী জুড়ে খারাপ পুরুষ মানুষ অনেক আছে কিন্তু খারাপ বাবা পাওয়া যাবে না একজনও। বাবা একজোড়া সেন্ডেল দিয়ে কাটিয়ে দেন বছরের পর বছর অথচ সন্তানের সেন্ডেল ছিড়া দেখলে তড়িঘড়ি করে ছুটেন জুতার দোকানে। যার হাত ধরে প্রথম বাড়ির বাইরে যাওয়া তিনি হলেন বাবা ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌দিন শেষে বাসায় ফিরে বাবা সকল ক্লান্তি ভুলে সন্তান কে বুকে টেনে নেন পরম মমতায়, শুনেন সন্তানের আবেগ আবদারের কথা মনোযোগ দিয়ে। বাবার সাথে .. সন্তানের সম্পর্ক গড়ে উঠে ভয় আর আদরের সম্মিলনে, রাগ আর স্নেহের অপূর্ব সমন্বয়ে। বাবার শাসন সন্তানের গতিপথকে পরিবর্তন করে সঠিক পথে পরিচালিত করে। 

দেখায় আলোর দিশা। বাবার কাছে কোন কিছু চাইলে বাবা না করেন না। সন্তানের পড়াশোনার খরচ যতই তার সামর্থের বাইরে হোক না কেন বাবা রাগ করেন না। সন্তান বড় হওয়ার পরও যখন দূর থেকে বাড়ি ফিরে তখন সন্তান কি এনেছে সেটা দেখেন না বাবা, দেখেন সন্তান ভালো আছে কিনা ।খবর নেন সন্তানের শরীর ভালো আছে কিনা। বাবা সন্তানের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করার পরও শেষ বয়সে প্রায়শই দেখা যায় সন্তানের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পায়না।

বাবা দিবস এর উৎপত্তি নিয়ে বেশ কিছু গল্প বা কাহিনী প্রচলিত আছে। এ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা গুলির মধ্যে সেনোরা লুইস স্মার্ট এর কাহিনীটা বেশী গ্রহনযোগ্য। ওয়াশিংটনের সেনোরা লুইস স্মার্ট এর মাধ্যমেই বাবা দিবসের প্রচলন শুরু হয়। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাল মিলিয়ে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালন করা হয়।

উইলিয়াম স্মার্ট ছিলেন একজন সৈনিক।তার ষষ্ঠ সন্তান সেনোরা লুইস স্মার্ট  এর জন্মের সময় তা মা অর্থাৎ উইলিয়াম স্মার্ট এর স্ত্রী মারা যায়। অনেক কষ্টে ছয় সন্তানকে  মানুষ করেন উইলিয়াম স্মার্ট। বাবার এই ত্যাগ আর কষ্টের কথা ভুলে যাননি সেনোরা লুইস স্মার্ট। ১৯০৯ সালে সেনোরা গীর্জায় একটা অনুষ্ঠানে মা দিবস এর কথা জানতে পারেন। তার বাবার কষ্টের কথা ভেবে তিনি বাবাদের জন্য একটি দিবসের কথা চিন্তা করেন। সেনোরা প্রথম এলাকার ধর্ম যাজকদের  সাথে এ নিয়ে আলোচনা করেন। ধর্ম যাজকগন তার সাথে এক মত পোষণ করেন। ওয়াশিংটনে ১৯০৯ সালের পাঁচ জুন ধর্ম যাজকদের কাছে ১৯ জুন বাবা দিবস পালনের আবেদন জানান সেনোরা।  সময় কম থাকায় ১৯০৯ সালে  শুধুমাত্র ওয়াশিংটন -এ ১৯ জুন  বাবা দিবস পালন করা হয়।  সম্ভবত ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথম বাবা দিবস পালন করা হয় অনানুষ্ঠানিক ভাবে।

১৯১৩ সালো যুক্তরাষ্ট্রের সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষনার বিল তোলা হয়। ১৯১৬ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন বিলটি অনুমোদন করেন। সর্বশেষ ১৯৬৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন রাষ্ট্রীয় ভাবে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবাদিবস বলে ঘোষণা দেন। এর ছয় বছর পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এ বিষয়টিকে আইনে পরিণত করেন। সেই থেকে বাবা দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে।

দুটি অক্ষরের একটি শব্দ বাবা, যার বিশালতা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বাবা মানে এক বিশাল বটবৃক্ষ, বটবৃক্ষের শীতল ছায়া।যার হাত ধরে হাঁটতে শিখি হোঁচট খেয়ে খেয়ে, চলতে শিখি জীবনের পথে। সন্তানকে জিতাবার জন্য বাবা প্রতিদিন হারতে থাকেন । সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে বাবা সব কষ্ট সয়ে যান নিরবে‌ চোখ বুজে। বাবা মানে তো প্রখর রোদে ক্লান্ত সন্তানের মাথার উপর এক বিশাল বটবৃক্ষের ছায়া। বাবা মানে এক আকাশ নির্ভেজাল ভালবাসা।বাবারা শুধু দিয়ে যান পাওয়ার আশা না করে।

শেষ জীবনে শত অবহেলা পেয়েও ঈশ্বরের কাছে সন্তানের মঙ্গল কামনা করে যান নিভৃতে। সারা জীবন সূর্যের মতো আলো বিলিয়ে যান সংসারে যে বাবা, শেষ জীবনে আমরা বাবার চাওয়া পাওয়ার বিষয়গুলো আমরা অনেকেই বুঝতে চাইনা। পৃথিবীর সকল বাবার জন্য শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। সকল বাবা যেন শেষ বয়সে সন্তানের স্নেহ ভালবাসায় কাটাতে পারে সেই কামনা বাবা দিবসে। পৃথিবীর কোন বাবার জায়গা যেন না হয় কখনো কোন বৃদ্ধাশ্রমে ।

 

এস ডি সুব্রত
কবি ও প্রাবন্ধিক

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top