সিডনী বৃহঃস্পতিবার, ৯ই ডিসেম্বর ২০২১, ২৫শে অগ্রহায়ণ ১৪২৮


মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত না দেয়ায় সৌদিগামী কর্মীরা পাচ্ছেন না বুস্টার ডোজ


প্রকাশিত:
২০ নভেম্বর ২০২১ ১২:৪০

আপডেট:
৯ ডিসেম্বর ২০২১ ২০:৩৩

 

প্রভাত ফেরী: যারা সৌদি আরব যাবার অপেক্ষায় আছেন কিন্তু বাংলাদেশ থেকে চীনে সিনোফার্মের টিকা নিয়ে ফেলেছেন। তাদেরকে সৌদি আরবে যেতে হলে বুস্টার ডোজ নিতে হবে। নয়তো পাঁচদিনের প্রাতিষ্ঠানিক হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে নিজ খরচে।

কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত না দেয়ায় সৌদি আরবগামী কর্মীদের বুস্টার ডোজ টিকার ব্যবস্থা হচ্ছে না। এতে করে অতিরিক্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হবে বিদেশগামী কর্মীদের।

সৌদি আরবে অনুমোদিত টিকা হচ্ছে চারটি, অক্সফোর্ড এস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার বায়োনটেক, মডার্না ও জনসন এন্ড জনসন। কিন্তু বাংলাদেশের অনেকেই সৌদি আরবে যেতে চান কিন্তু চীনের সিনাফার্মা টিকা নিয়েছেন। আর  তাদেরকে বুস্টার ডোজ হিসেবে অনুমোদিত চারটি টিকার যেকোনো একটি নেয়ার শর্ত দেয় সৌদি সরকার। নয়ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

সেই প্রেক্ষিতে ৫ সেপ্টেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এ বিষয়টি চিঠি দেন এবং সৌদি আরবগামী কর্মীদেরকে বুস্টার ডোজ দেয়ার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়।

১৬ ও ১৭ নভেম্বর আলাদা দুটি অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বুস্টার ডোজ টিকা দেয়ার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। উল্টো তিনি সৌদি আরব সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, দেশটি যেনো চীনের টিকা অনুমোদন দেয়।

এর আগে একাধিকবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকেও জানানো হয়েছিল বুস্টার ডোজ এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ২০ নভেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ভালো খবর আসতে পারে।

৭ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মন্ত্রী দুজনে জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবগামী কর্মীদের বুস্টার ডোজ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুরক্ষা পোর্টাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ সার্টিফিকেটে বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির জন্য আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

৪ নভেম্বর জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বিএমইটির মহাপরিচালক শহিদুল আলম জানিয়েছিলেন, সেদিন একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সুরক্ষা পোর্টাল কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের সময় চেয়েছিল বুস্টার ডোজ পদ্ধতি অনলাইনে যুক্ত করার জন্য। সেই হিসেবে ২০ নভেম্বরের মধ্যে বুস্টার ডোজ সম্পর্কে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন।

তবে ১৬ ও ১৭ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বুস্টার ডোজ বিষয়ে বাংলাদেশে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তার মানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের চিঠি চালাচালি ও দেনদরবার, শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত না নেয়ায় সৌদি আরবগামী কর্মীদেরকে অতিরিক্ত খরচ করেই দেশটিতে যেতে হবে। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক করেন্টিন পালন করতে হবে। প্রায় ৫০ হাজার টাকা বাড়বে অভিবাসন ব্যয়।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top