সিডনী শুক্রবার, ২২শে অক্টোবর ২০২১, ৬ই কার্তিক ১৪২৮


অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকা


প্রকাশিত:
২৯ মার্চ ২০২০ ১৮:১৬

আপডেট:
২২ অক্টোবর ২০২১ ০০:০৪

ছবি: সংগৃহীত

ধনী হতে কে না চায়? নিত্যদিনের টানাপোড়েন, জীবনের নানা চাহিদা ও কাজের চাপে পিষ্ট মানুষ কদাচিত অতিরিক্ত মাত্রার ধনীদের দেখে তাদের মতোই বিলাসবহুল জীবনের স্বপ্ন দেখে। তথাপি বাস্তবতা হলো যারা ধনী মানুষ, তাদের বেশিরভাগই পরিশ্রম এবং চেষ্টার মাধ্যমেই তাদের সম্পদ অর্জন করেছেন। তবে হ্যাঁ, চুড়ান্ত মাত্রার সম্পদশালী হতে হলে চেষ্টার পাশাপাশি ভাগ্যেরও প্রয়োজন হয় বৈ কি। সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত বাণিজ্যিক ম্যাগাজিন ফোর্বস প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ৫০ জন ধনী ব্যক্তির তালিকা। এই তালিকায় যারা আছেন তাদের কাজের ক্ষেত্র যেমন বৈচিত্র্যপূর্ণ, তেমনি তাদের ইতিহাস ও সম্পদের পরিমাণও।

এই তালিকার শীর্ষে থাকা ধনী ব্যবসায়ী জিনা রাইনহার্টের সম্পদের পরিমাণ ১৪.৮ বিলিয়ন ডলার, যার মূল উৎস হলো মাইনিং বা খনিজ আহরণ। অন্যদিকে সর্বশেষ ব্যক্তি মাইকেল হেইনের সম্পদের পরিমাণ ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, যিনি ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস বা আর্থিক পরামর্শদাতা ব্যবসার মাধ্যমে এ সম্পদ অর্জন করেছেন। এই পঞ্চাশ শীর্ষ অস্ট্রেলিয়ান ধনী ব্যক্তির তালিকা সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে আরেকটি বিষয় দেখা যায়। তা হলো প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার এই যুগে শীর্ষ ধনীদের কাতারে নাম লেখাতে এখন আর ষাট কিংবা সত্তর বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। বরং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার মাধ্যমে চল্লিশের কোঠায় পৌছার আগেই ধনী হতে সক্ষম হচ্ছেন অনেকে।

তালিকার পঞ্চম স্থানে যৌথভাবে আছেন এমনই দুই যুবক। ঊনচল্লিশ বছর বয়সী মাইক ক্যানন-ব্রুকস এবং সমবয়সী স্কট ফারকুহারের সম্পদের পরিমাণ ৬.৪ বিলিয়ন ডলার। সফটওয়ার ব্যবসার মাধ্যমে তারা এই সম্পদ অর্জন করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সফটওয়ার প্রতিষ্ঠান আটলাসিয়ানের এ দুই যৌথ প্রতিষ্ঠাতা বর্তমানে নাসা, টেসলা এবং স্পেইস-এক্স এর মতো বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সেবা বিক্রয় করছেন। সিডনিতে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে দামী বাড়ির মালিকানা ক্যানন-ব্রুকস এর এবং তার প্রতিবেশী ফারকুহারের বাড়িটি হলো অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুল্যবান বাড়ি। পয়ষট্টি বছর বয়সী শীর্ষ ধনী জিনা রাইনহার্টের মাইনিং ব্যবসার পাশাপাশি পশুর খামার বা ক্যাটল ব্যবসাও রয়েছে।

দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ী ছিয়াশি বছরের হ্যারি ট্রিগোবফের ব্যবসা হলো রিয়েল এস্টেটের। টেক্সটাইল ব্যবসার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও তিনি ষাটের দশকে প্রপার্টি ব্যবসায় পদার্পন করেন। ‘হাই রাইজ হ্যারি’ নামে পরিচিত এই ব্যবসায়ী মেরিটন কোম্পানীর মালিক। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন আটান্ন বছর বয়সী প্যাকেজিং, রিসাইক্লিং এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যাবসায়ী এনথনি প্র্যাট, যার মোট সম্পদের পরিমাণ ৬.৮ বিলিয়ন ডলার। এছাড়াও শীর্ষ দশে আরো রয়েছেন আটাশি বছর বয়সী শপিং মল ব্যবসায়ী ফ্র্যাংক লোয়ি (৬.৫ বিলিয়ন), পুর্বোল্লিখিত আটলাসিয়ানের দুই তরুণ প্রতিষ্ঠাতা, সাতান্ন বছর বয়সী মাইনিং ব্যবসায়ী এনড্রু ফরেস্ট (৪.৩ বিলিয়ন), চুরাশি বছর বয়সী শপিং মল ব্যবসায়ী জন গ্যান্ডেল (৪ বিলিয়ন) এবং একান্ন বছর বয়সী ক্যাসিনো ব্যবসায়ী জেমস প্যাকার (৩.৬ বিলিয়ন)।

অস্ট্রেলিয়ার দশম ধনী ব্যক্তি হলেন একাশি বছর বয়সী লজিস্টিক্স এবং রিয়েল  এস্টেট ব্যবসায়ী লিন্ডসে ফক্স (৩.৫ বিলিয়ন)। অস্ট্রেলিয়ার সর্ববৃহৎ লজিস্টিক্স কোম্পানী ফক্সের ট্রাকগুলো হয়তো অনেকের চোখে পড়েছে। সারা অস্ট্রেলিয়া জুড়ে প্রায় ৫,০০০ ট্রাক ছাড়াও তিনি দুইটি এয়ারপোর্ট, বিজনেস পার্ক, মেলবর্নের বিখ্যাত লুনা পার্ক ইত্যাদির মালিক। মাত্র ষোল  বছর বয়সে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র লিন্ডসে ফক্স পড়ালেখা ছেড়ে দেন এবং তার বাবার মতোই ট্রাক ড্রাইভারের পেশা বেছে নেন। ঊনিশ বছর বয়সে তিনি তার জীবনের প্রথম ট্রাকটি কিনেন। এবং সেই থেকে তার উত্থান ও ব্যবসায়িক সমৃদ্ধির শুরু।

শীর্ষ ধনীদের প্রত্যেকেরই জীবন এ ধরণের নানা চমকপ্রদ ঘটনা, চ্যালেঞ্জ এবং উত্থান-পতনে পরিপূর্ণ। তাদের কাজের ক্ষেত্রও অত্যন্ত  বিস্তীর্ণ। এই তালিকায় যেমন আছেন মিডিয়া ব্যবসায়ী ক্যারি স্টোকস, ফাস্ট ফুড ব্যবসায়ী জ্যাক কোয়িন, টেলিকম ব্যবসায়ী ডেভিড টিওহ কিংবা কৃষিনির্ভর প্রোডাক্টের ব্যবসায়ী ব্রেট ব্লান্ডি, তেমনি আছেন সিনেমা-হোটেল-রিজর্টের মালিক বিনোদন ব্যবসায়ী এলান রিজ ও। তবে প্রথম পঞ্চাশ এই শীর্ষ ধনীর পোর্টফোলিওতে দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বেশি ধনী মানুষদের বেশিরভাগই মূলত চারটি খাতের ব্যবসার সাথে জড়িত, তা হলো রিয়েল এস্টেট, মাইনিং, ইনভেস্টমেন্ট এবং রিটেইলস।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top