সিডনী বৃহঃস্পতিবার, ৯ই ডিসেম্বর ২০২১, ২৫শে অগ্রহায়ণ ১৪২৮


করোনায় মহৎ উদ্যোগে ১০০ বছর বয়সে 'নাইটহুড'


প্রকাশিত:
২০ জুলাই ২০২০ ১১:৪৭

আপডেট:
৮ ডিসেম্বর ২০২০ ১১:৪৭

ফাইল ছবি

 

রিপোর্টঃ মু: মাহবুবুর রহমান

বয়স যে একটি সংখ্যা ছাড়া কিছুই নয় সেটা প্রমান করলেন প্রবীণ ব্রিটিশ সেনা টম মুর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারত, মিয়ানমার আর সুমাত্রায় দায়িত্ব পালন করা সৈনিক টম মুর গত ৩০ শে এপ্রিল পালন করেন শততম জন্মদিন। আর ১৭ ই জুলাই ২০২০ তারিখে ভূষিত হলেন নাইটহুড উপাধিতে। সম্ভবত ১০০ বছর বয়সে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত হওয়া একমাত্র ভাগ্যবান তিনি।

তার শততম জন্মদিনের আগে ৬ এপ্রিল নিজের বাড়ির সামনের বাগানে ১০০ পাক হেঁটে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে লড়াই করা ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ (এনএইচএস) এর জন্য কিছু চাঁদা তোলার পরিকল্পনা করেন টম মুর। ক্যান্সারে ভোগার সময় এনএইচএসের ডাক্তার-নার্সরা তাকে যেভাবে সেবা করেছে, তার কিছু প্রতিদান দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তার এই ইচ্ছেটা সংবাদমাধ্যমেও দারুণ প্রচার পায়।

টম মুরের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল মাত্র ১০০০ পাউন্ড চাঁদা তোলার। এরপর ভাঙা কোমর নিয়ে টম মুর প্রতিদিন ১০ পাক (এক পাকে ২৫ মিটার) করে হাঁটা শুরু করলেন চাকা লাগানো ধাতব ফ্রেমে ভর দিয়ে। ৩০ এপ্রিল ১০০তম জন্মদিনেই ১০০ পাক হাঁটা হয়ে গেল। এই সময়ের মধ্যে বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী তার তহবিলে জমা পড়লো ৩০ মিলিয়নেরও বেশি অর্থাৎ ৩ কোটি পাউন্ডের বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ৩২০ কোটি ৫৩ লাখ ২২ হাজার ২২৯ টাকা। ব্যক্তিগতভাবে কোনও দাতব্য কাজে সংগৃহীত অর্থ হিসেবে যা বিশ্বরেকর্ড।

টম মুরের ঐ মহতী উদ্যোগ ব্রিটেনের জনগণের মন জয় করে। এরপরই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তাকে নাইটহুড উপাধির জন্য মনোনীত করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, ‘ক্যাপ্টেন টমের অসাধারণ তহবিল সংগ্রহ অনেক রেকর্ড ভেঙেছে। পুরো দেশ যখন করোনাভাইরাস নামে কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিলো, আমরা আশার আলো দেখেছি। উৎসাহ পেয়েছি।’বিজ্ঞপ্তিতে বরিস জনসন আরও বলেন, ‘যেসব মানুষ এই ঘটনায় আবেতাড়িত হয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনি আমাদের জাতীয় সম্পদ।’

আর ১৭ ই জুলাই (শুক্রবার) স্থানীয় সময় বিকেলে অসাধ্যসাধন করা শতবর্ষী ‘যোদ্ধাকে’নাইট উপাধিতে ভূষিত করলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এদিন উইন্ডসর ক্যাসেলে আয়োজিত নাইট প্রদান অনুষ্ঠানে রানির বাবা জর্জ ষষ্ঠ-এর একটি তলোয়ার ব্যবহার করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে অনুষ্ঠানে শুধু টম মুরের পরিবারের সদস্যদেরই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

এর আগে এ বছরই ক্যাপ্টেন টম মুরকে অনারারি কর্নেল ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অনারারি সদস্যপদ দেওয়া হয়। ‘নাইটহুড’ উপাধিতে ভূষিত হওয়ার বদৌলতে রাতারাতি ‘ক্যাপ্টেন টম মুর’ থেকে ‘স্যার টম মুর’ হয়ে যাওয়া শতায়ু যোদ্ধা বলেন, “এমন গৌরব অর্জনের কথা আমি কখনও ভাবিনি। এটা অনেক বড় সম্মান”।

 

মু: মাহবুবুর রহমান
নিউজিল্যান্ডের মেসি ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top