সিডনী বৃহঃস্পতিবার, ৬ই মে ২০২১, ২৩শে বৈশাখ ১৪২৮


বিশ্বে করোনা আক্রান্ত ১৫ কোটি ছাড়াল: গত ১২ দিনে আক্রান্ত এক কোটি : মু: মাহবুবুর রহমান 


প্রকাশিত:
৩ মে ২০২১ ১৪:১২

আপডেট:
৬ মে ২০২১ ০৬:৪৪

 

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারিতে শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৫ কোটি ছাড়িয়েছে, যার শেষ এক কোটি রোগী শনাক্ত হয়েছে মাত্র ১২ দিনে। 

এ বছরের ২৭ জানুয়ারি বিশ্বে মোট করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ কোটির মাইলফলকে পৌঁছায়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে অতি দ্রুত। মাত্র চার মাসের মধ্যে নতুন রোগী বেড়েছে ৫০ শতাংশ। 

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩১ লাখ। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার সংখ্যাও নিতান্ত কম নয়। বিশ্বজুড়ে সুস্থ হয়েছেন সাড়ে ১২ কোটিরও বেশি করোনা রোগী। 

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা গতবছরের (২০২০ এর) ১ এপ্রিল ছিলো ১০ লক্ষ, ২৮ জুন এ সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি, ১১ আগস্টে দুই কোটি, ৯ নভেম্বর পাঁচ কোটি আর এ বছরের (২০২১ এর) ২৭ জানুয়ারি বিশ্ব জুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করে। এ বছর ২ এপ্রিল বিশ্ব জুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ কোটিতে, এর পরবর্তী ১৬ দিনে আরো এক কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়ে ১৮ এপ্রিল এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ কোটি, আর সর্বশেষ ১২ দিনে আরো এক কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়ে ৩০ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫ কোটি। 

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হলেও চীনে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। তবে সেই ঘোষণা আসে ১১ জানুয়ারি। এর দুদিন পর গত বছরের ১৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডে প্রথম করোনা রোগী ধরা পড়ার পর জানা যায়, চীনের রাষ্ট্রীয় সীমানা পেরিয়ে গেছে এই ভাইরাস। এরপর কেবল বাড়তেই থাকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, পরবর্তী দেড় মাসের মধ্যে এন্টার্কটিকা বাদে সব মহাদেশেই ধরা পড়ে করোনা রোগী। 

গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। এর আগে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি করোনার প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগের নামকরণ করে ‘কোভিড-১৯’। আর গত বছরের ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। 

করোনায় এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। করোনার পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের শনিবার (১ লা মে) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯ টার তথ্যানুযায়ী করোনা তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩ হাজার ৯৭৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৫৫ জনের। 

ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল আক্রান্তে তৃতীয় ও মৃত্যুর দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত রোগী ১ কোটি ৪৬ লাখ ৬৫ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৪ হাজার ২৮৭ জনের। 

বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ ভারত করোনা আক্রান্ত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় এবং মৃত্যু নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ১ কোটি ৯১ লাখ ৫৭ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মারা গেছেন ২ লাখ ১১ হাজার ৮৩৫ জন। 

করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যু নিয়ে ভয়াবহ দিন পার করছে ভারত। গত বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) এক দিনে ভারতে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। ভারত তথা বিশ্বের কোনো দেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে এত করোনা রোগী আগে কখনো শনাক্ত হয়নি। এ নিয়ে ভারতে টানা ৯ দিন ধরে তিন লাখেরও বেশি করে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আর করোনায় মৃত্যও বেড়ে চলছে ভারতে। গত ২৭ এপ্রিল থেকে প্রতিদিন দেশটিতে তিন হাজারের বেশি মানুষ করোনায় মৃত্যুবরন করছে। 

দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুতে প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড গড়ছে ভারত। দেশটির ভয়াবহ এ পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনের পর চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে রাশিয়া। বিপদকালে এই সহযোগিতার জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।  

করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতকে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতকে ১০ হাজার অ্যান্টিভাইরাল ইনজেকশন, ৩০ হাজার পিপিই, কয়েক হাজার জিংক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ভারতের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর দুঃখ এবং সমবেদনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

 

মু: মাহবুবুর রহমান  
নিউজিল্যান্ডের মেসি ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top