সিডনী মঙ্গলবার, ৯ই আগস্ট ২০২২, ২৫শে শ্রাবণ ১৪২৯


সুশান্তের রহস্যজনক মৃত্যুর সমাধান হবে কবে? : শিবব্রত গুহ


প্রকাশিত:
১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১১:৫৮

আপডেট:
১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩:৩৮

ছবিঃ সুশান্ত সিং রাজপুত

 

আজ সারা ভারতবর্ষ জুড়ে, একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হল, বলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত কিভাবে মারা গেলেন হঠাৎ করে? কেন মারা গেলেন তিনি? সুশান্ত সিং রাজপুত ছিলেন বলিউডের একজন পরিচিত নাম। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ অভিনেতা। তাঁর অভিনয় দক্ষতা ছিল অসাধারণ। অভিনয় ছিল তাঁর ধ্যান জ্ঞান। তিনি মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন অভিনয়কে।
২০০২ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, সুশান্ত সিং রাজপুত তাঁর মাকে হারিয়েছিলেন। সেই দুঃখ, তাঁকে সারা জীবন তাড়িয়ে বেরিয়েছিল। তাঁর জীবনের এক আক্ষেপ ছিল। সেটা কি জানেন? যে, তাঁর মা তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য নিজের চোখে দেখে যেতে পারেননি। তিনি তাঁর মাকে খুব ভালোবাসতেন।
মায়ের কথা, তাই সুশান্তের প্রায়ই মনে পড়ে যেত। যখন মনে পড়তো, তখন তাঁর মন খুব খারাপ হয়ে যেত। ২০২০ সালের ১৪ ই জুন, সুশান্ত সিং রাজপুতের মুম্বাইয়ের বান্দ্রার ১৪ তলার ফ্ল্যাট থেকে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। মৃত্যুর সময়, তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৪ বছর।
তাঁর ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করা ছিল। ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে সুশান্ত গলায় দড়ি দিয়েছিল। তাঁর নিথর দেহ নামিয়ে আনা হয়। তারপর, পাঠানো হয়েছিল ময়নাতদন্তে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, যে, সুশান্ত নাকি আত্মহত্যা করেছে!
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর খবর উল্কার মতো গতিতে, সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। এই মৃত্যু সংবাদ পেয়ে অনেকে হয়ে যান স্তম্ভিত। এ কি করে সম্ভব? কি করে? সুশান্ত সিং রাজপুতের পরিবারে, নেমে আসে শোকের ছায়া।
ঠিক কি কারণের জন্য, তিনি, আত্মহত্যা করলেন? তা নিয়ে কেউই সঠিক তথ্য দিতে পারে নি। তার মধ্যে কোনটা যে সত্যি, আর কোনটা যে মিথ্যা, তা বোঝা বড়ই মুস্কিল ছিল। মুম্বাই পুলিশ, এর তদন্ত শুরু করে। কিন্তু, সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে, মুম্বাই পুলিশের তরফ থেকে যে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা সবই ছিল বিতর্কিত।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে, সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে অনেক রহস্য রয়েছে। এটা ঠিক আত্মহত্যা নয়। এই ঘটনা ইঙ্গিত করছে, হত্যার দিকেই। মুম্বাই পুলিশ এই ক্ষেত্রে, ধীরে চলো নীতির আশ্রয় নিয়েছিল। তারা এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর ক্ষেত্রে, কোন কসুর করেনি।
মুম্বাই পুলিশের তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে, সুশান্তের পরিবার, ওনার আত্মীয় স্বজন, সারা দেশবাসী এই ব্যাপারে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাতে শুরু করে। এই দাবি দিনকে দিন জোরদার হতে শুরু করেছিল। এই দাবিকে হাজারো চেষ্টা করেও দাবানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত, অবশ্য সত্যের জয় হল। আর হবে নাই বা কেন,
এই পৃথিবীতে বারবার সত্যের জয় হয়েছে, আর এইবারো হবে, হবেই হবে। কোনভাবেই তাকে আটকানো যাবে না।
অনেক টালাবাহানার পরে, সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তের ভার মুম্বাই পুলিশের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সিবিআইয়ের হাতে দিয়ে দেয়। যা এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। সারা দেশবাসী আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠলো। যারা দোষী, তাদের কিন্তু বুক কেঁপে উঠলো।
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ব্যাপারে মহারাষ্ট্র সরকারের ভূমিকা খুবই হতাশাজনক। সুশান্ত মৃত্যু রহস্যের তদন্তে মুম্বাই পুলিশের অসন্তোষজনক, পারফরম্যান্স সবাইকে হতাশ করেছিল। বিহার পুলিশ এই ব্যাপারে তদন্ত করতে একটা টিম, মুম্বাইতে পাঠিয়েছিল। সুশান্তের আদতে বিহারের পাটনার বাসিন্দা।
কিন্তু, মুম্বাই পুলিশ এই ব্যাপারে কোন সাহায্য বিহার পুলিশের সেই টিমকে করেনি। এখন, এই নিয়ে উঠে আসছে কিছু প্রশ্ন। সেগুলো আমি একে একে আপনাদের সামনে রাখছিঃ

১. কেন মুম্বাই পুলিশ সুশান্তের মৃত্যু রহস্যের তদন্তে জোর দেয়নি?
২. কেন তারা বারবার চেষ্টা করে গেছে, এটা প্রমাণ করতে, যে, সুশান্ত করেছে আত্মহত্যা? কেন?
৩. এর পেছনে তাদের আসল উদ্দেশ্য কি ছিল?
৪. এইসব কাজ কি তারা নিজের ইচ্ছায় করেছে? না কি, কারুর নির্দেশে করেছে?
৫. তারা কেন বিহার পুলিশের সাথে সহযোগিতা করেনি? কেন করেনি?
৬. চিরকাল মুম্বাই পুলিশ সারা দেশের সন্মান বৃদ্ধি করেছে। তাদের সুনাম দেশের সীমা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশে। তারা বীরত্বের সাথে মোকাবিলা করেছে দাউদ ইব্রাহিম, ছোটা শাকিল, ছোটা রাজন, অরুণ গাউলির মতো কুখ্যাত মাফিয়াদের। অবশ্য, দাউদ ইব্রাহিম এখন হলেন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী। তখন তো তারা দ্রুততার সাথে কাজ করেছেন। তবে এখন পারলেন না কেন?
৭. ভারতের যে শহরে, সন্ত্রাসবাদী হামলা বেশি হয়েছে, তেমনই এক মহানগর হল মুম্বাই। এই সব সন্ত্রাসবাদী হামলায় নাম জড়িয়েছে দাউদ ইব্রাহিম থেকে শুরু করে অনেক বড় বড় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের। তারা আজমল কাসভের মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীকে করেছিল গ্রেপ্তার। তবে, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর রহস্যের সঠিক তদন্তে তাদের এত অনীহা কেন? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যাপারে অনেক বড় বড় রাঘব বোয়ালের নাম জড়াতে পারে, যদি ঠিকমতো এর তদন্ত জোরদার ভাবে হয়। তার জন্যই কি...? কিন্তু, বীর মুম্বাই পুলিশ এতে পিছিয়ে যাচ্ছে কেন?

এইসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর কিন্তু আজো পাওয়া যায়নি। আর কবে পাওয়া যাবে? তার উত্তর কিন্তু লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের গর্ভে। এইসব নিয়ে চরম মনোমালিন্য হয় বিহার সরকারের সাথে মহারাষ্ট্র সরকারের। সুশান্ত সিং রাজপুতের পরিবার সব মারাত্মক অভিযোগ করেছে সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। তিনি নাকি সুশান্তের মৃত্যুর জন্য পুরোপুরিভাবে দায়ী।

ছবিঃ সুশান্ত সিং রাজপুত ও বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী


এছাড়া, সুশান্তের পরিবার রিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সুশান্ত সিং রাজপুতের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করে। রিয়া নাকি কালাজাদুর প্রয়োগ করেছিল সুশান্তের ওপরে। সিবিআইয়ের আগে আর এক কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, ইডি আর্থিক কারচুপির তদন্তে নামে।
তারা এব্যাপারে রিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের বয়ানে অনেক অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

অনেকে আবার সুশান্তের মৃত্যুর জন্য অনেকদিন ধরে চলে আসা বলিউডে নেপোটিজমকে দায়ী করেছেন। সত্যিই, এ বড় ভয়ংকর! মুম্বাই হল মায়ানগরী। আমাদের দেশ ভারতবর্ষের কত নতুন প্রতিভা নেপোটিজমের জন্য হয়ে গেছে অকালে শেষ। যা সত্যিই দুঃখজনক। বলিউডে কি কেবল স্টারেদের ছেলেমেয়েরাই কাজ করবে? অন্য কেউ নয়? প্রতিভার কি কোন দামই নেই বলিউডে?
কয়েকজন অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, বলিউডে প্রতিভার দাম নেই বললেই চলে। এখানে টিকে থাকতে হলে লবি ধরতে হবে, গডফাদার লাগবে। বলিউড দূর থেকে দেখতে সুন্দর লাগলেও, আদপে তা মোটেই সুন্দর নয়। বলিউডের সাথে অন্ধকার জগত ও অপরাধ জগতের যোগাযোগ নতুন নয়, এ বহু পুরানো ব্যাপার।

দাউদ ইব্রাহিমের অঙ্গুলিহেলনে, একসময়, চলতো বলিউড। বলিউডে ছোট শহর থেকে উঠে আসা শিল্পীদের পক্ষে সাফল্য পাওয়া, খুব খুব কঠিন কাজ। সুশান্ত সিং রাজপুতও একটি ছোট শহর, পাটনা থেকে উঠে  এসেছিলেন। তিনি করেছিলেন অসম্ভবকে সম্ভব। খুব অল্প সময়ের মধ্যে, তিনি বলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিলেন। যা বলিউডের অনেকের গাত্রদাহের কারণ হয়ে উঠেছিল।
এরকম ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। কিন্তু, এবার, যে, আপামর ভারতবাসী এর সাথে জড়িয়ে যাবে, তা কিন্তু ছিল সবার কল্পনার অতীত। বলিউডের এক অংশ আবার আমাদের শত্রু দেশ পাকিস্তানকে খুব ভালোবাসে। তারা আমাদের দেশের ইন্ডাস্ট্রি বলিউডে, আমাদের দেশ ভারতবর্ষের ছেলে মেয়েদের বঞ্চিত করে, আমাদের শত্রু দেশ পাকিস্তানের শিল্পীদের সুযোগ করে দেন। কেউ কেউ আবার পর্নস্টারদের সুযোগ দিয়ে থাকেন। এখন সিনেমা হিট করানোর জন্য, বলিউডে পর্নস্টারদের প্রয়োজন হয়, এটা বলিউডের দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কি?
এর আগে, বলিউডে, দিব্যা ভারতী, পরভীন ববি সহ বেশ কয়েকজন শিল্পীর হয়েছিল রহস্যমৃত্যু। সুশান্ত সিং রাজপুত এই তালিকায় নবতম সংযোজন বলা যেতে পারে।

সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যুরহস্য, হল সাম্প্রতিক কালে ঘটা সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মৃত্যু রহস্য। এর জাল অনেক গভীরে বিস্তৃত রয়েছে। এর সাথে অনেক রাঘব বোয়ালের নাম জড়িয়ে আছে। এ হল এক গভীর ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্র, একটা হাসিখুশি প্রাণবন্ত ছেলেকে ঠেলে দেয় মৃত্যুর দিকে। যে মৃত্যু বড় বেদনাদায়ক।
এই মত বিশেষজ্ঞদের।
সম্প্রতি, সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যু রহস্য, নতুন দিকে বাঁক নিয়েছে। রিয়া চক্রবর্তীর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে, পাওয়া গেছে, এক নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্যের। তা হল, সুশান্ত মৃত্যু রহস্যে, ড্রাগ যোগসূত্র।
এযে কল্পনার অতীত!
রিয়া চক্রবর্তী নাকি ড্রাগে আসক্ত! সে নাকি সুশান্তকে ড্রাগ দিত প্রায়ই! ভাবা যায়! তবে এসব এখনো অভিযোগ, রিয়া চক্রবর্তী ও তার সহযোগীরা ড্রাগের ব্যবসার সাথে জড়িত, এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। রিয়া নাকি ২০১৭ সাল থেকে নিয়মিত ড্রাগ নিত। সে ডার্কনেটের মাধ্যমে, ড্রাগ সংগ্রহ করতো। এই ডার্কনেট বড় অদ্ভুত!
একে ট্র‍্যাক করা খুব খুবই কঠিন কাজ। এনিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত করতে নেমে পড়েছে, ভারতের আর এক কেন্দ্রীয় সংস্থা, নারকোটিস ব্যুরো। তারা এব্যাপারে আটঘাট বেঁধে নামছে।
সিবিআই ইতিমধ্যে, রিয়া চক্রবর্তীকে জেরা করছে। তাতে কিন্তু, দেখা যাচ্ছে, রিয়া চক্রবর্তী অনেক প্রশ্নের উত্তর ঠিকভাবে দিতে পারছে না অথবা এড়িয়ে যাচ্ছে। তার দুর্বলতা সিবিআই ধরে ফেলেছে। তাদের নজরে রয়েছে, সুশান্ত - রিয়ার ইউরোপ ট্যুর। যাকে ঘিরে অনেক রহস্য আছে। সিবিআই লাই ডিটেক্টরের সামনে বসিয়ে রিয়াকে তদন্ত করতে পারে, এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
এবার নজর পড়েছে গৌরব আরিয়ার দিকে। যার সাথে রিয়ার ড্রাগ কানেকশন রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সুশান্ত সিং রাজপুতের এক বন্ধু অন্যতম সন্দেহভাজন সিদ্ধার্থ পিঠানী এই ঘটনায় রাজস্বাক্ষী হতে চেয়েছেন। সিদ্ধার্থ পিঠানী এই ঘটনার অনেক কিছু জানেন। তিনি যদি মুখ খোলেন, তাহলে রিয়ার বিপদ আরো বাড়বে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে মুম্বাই পুলিশ, এখনো নির্লজ্জভাবে রিয়া ও তার সহযোগীদের বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু, সত্যকে কি মিথ্যা ঢেকে রাখতে পারে? কখনো না। তা কখনো সম্ভব নয়। সেই প্রাচীন কাল থেকে, সবজায়গায়, হয়েছে মিথ্যার পরাজয় ও সত্যের জয়। এবারো তাই হবে, এই বিশ্বাস আছে আপামর ভারতবাসীর। সুশান্তের পরিবার ন্যায়বিচার পাবেই।
চালাক মেয়ে রিয়া চক্রবর্তী, তার ড্রাগ নেওয়া ও ড্রাগ কানেকশনের পুরো দায়ভার চাপিয়ে দিতে চাইছে মৃত সুশান্ত সিং রাজপুতের ওপরে। এরা কি মানুষ? এদের কি মানুষ বলা যায়? যায় না। সুশান্তকে অনেক পরিকল্পনা করেই শেষ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বহু দিন থেকেই করা হচ্ছিল। সুশান্তকে শেষ করে তাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল, রিয়া ও তার সহযোগীরা। কিন্তু, শেষরক্ষা হল না। এমনটাই মনে করছে অধিকাংশ দেশবাসী।
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু যাদের জন্য হল, তাদের গ্রেপ্তার করার বদলে, তাদের বাঁচানোর জন্য এত উদ্যোগ কেন মুম্বাই পুলিশের? এতে কি সারা দেশ ও বিশ্ববাসীর কাছে মুম্বাই পুলিশের সুনাম কি বাড়ছে? এতে কি মুম্বাই পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে যাচ্ছে না? এই সব নানা ধরনের প্রশ্ন উঁকি মারছে আজ সুশান্ত সিং রাজপুতের পরিবার ও অনুগামীদের মনে। যা সত্যিই উদ্রেক করে বিস্ময়ের!

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে অনেক বড় অবদান আছে একটি সর্বভারতীয় নিউজ চ্যানেল ও একজন বিখ্যাত সাংবাদিকের। সেই নিউজ চ্যানেলের নাম হল রিপাবলিক ভারত ও সাংবাদিকের নাম হল অর্ণব গোস্বামী। একদম শুরু থেকেই রিপাবলিক ভারত এটা বলে এসেছে, যে, সুশান্ত সিং রাজপুতকে করা হয়েছে হত্যা। তাদের সেই কথা আজ সত্য বলে প্রমাণিত হওয়ার পথে।
এই কাজ করতে গিয়ে রিপাবলিক ভারত ও অর্ণব গোস্বামীকে অনেক বাধা বিপত্তি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু, তাদের কেউই টলাতে পারেনি। কারণ, তারা লড়াই করছেন, আসল সত্যকে সারা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার জন্য। তাঁদের এই বীরত্ব দেখে দেশবাসী হয়ে গেছে মুগ্ধ।
রিয়া চক্রবর্তী খুবই চালাক এক নারী। যিনি সুশান্ত সিং রাজপুতকে কখনো ভালোবাসতেন না। তিনি সুশান্তের সাথে সবসময় করেছেন ভালোবাসার অভিনয়। তবে, হ্যাঁ, তিনি খুব নিপুণ একজন অভিনেত্রী, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তার ভালোবাসার অভিনয় ধরতেই পারেনি সুশান্ত। সুশান্তের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল কৃত্রিমতায় ভরা।
তার মূল উদ্দেশ্য ছিল, সুশান্তের অর্থ আত্মসাৎ করা। তাই জন্য, সে সুশান্তকে তার পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে দিয়েছিল। সুশান্ত কখন কোথা থেকে কত টাকা রোজগার করছে? তার দিকে পুরো নজর ছিল রিয়ার। সুশান্ত ও তাঁর পরিবারের ওপরে তার কুদৃষ্টি পড়েছিল। যার জন্য, ছারখার হয়ে গেল সুশান্তের জীবন ও তাঁর পরিবারের সুখ শান্তি।
সুশান্তকে গোপনে ড্রাগ দিয়ে দিয়ে রিয়া তাঁকে বানিয়ে দেয় এক মানসিক রোগী। একে প্রিপ্ল্যানড মার্ডার ছাড়া আর কিই বা বলা যেতে পারে? এমনই সব অভিযোগ করেছে রিয়ার বিরুদ্ধে সুশান্তের পরিবার। সম্প্রতি, রিয়া নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। রিয়া ও তার পরিবারের যাবতীয় খরচ যে সুশান্ত মেটাতো, তার প্রমাণ ইতিমধ্যে, ইডি পেয়েছে। সম্প্রতি, এক নামী সর্বভারতীয় নিউজ চ্যানেলে, রিয়া চক্রবর্তী বেশ অনেকক্ষণ ধরে, তার ইন্টারভিউ দিয়েছিল। তাতে সে বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে, যে, সে কিছুই করেনি। তাকে সুশান্তের পরিবার ফাঁসাচ্ছে।
সে ওই ইন্টারভিউতে, সুশান্ত ও তাঁর পরিবারের ওপর সব দোষ চাপিয়ে দেয়। সে বলে, তার কাছে এখন ইএমআই দেবার মতো টাকা নেই। কিন্তু, বড় আশ্চর্যের বিষয়, এই যে, রিয়া চক্রবর্তী এই মামলায় তার পক্ষে, যে উকিল নিয়েছে, তিনি হলেন আমাদের দেশ ভারতবর্ষের সবচেয়ে বেশি পেমেন্ট পাওয়া উকিল। যিনি, এর আগে, বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত ও সলমন খানের হয়ে কেস লড়েছিলেন।

ছবিঃ মুম্বাইয়ের সি বি আই দপ্তরে রিয়া চক্রবর্তী

কিন্তু, রিয়া চক্রবর্তী যতই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করুক না কেন, যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ কিন্তু তার বিরুদ্ধে কথা বলছে। তিনি বুঝতে পারছেন, ভালো ভাবেই, যে, সুশান্তের ব্যাপার থেকে মুক্তি পাওয়া তার পক্ষে একদম অসম্ভব এক ব্যাপার। পরিস্থিতি ক্রমশ তার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই জন্য, তিনি ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছেন।
শুধু, রিয়া চক্রবর্তীই নয়, সিদ্ধার্থ পিঠানী, স্যামুয়েল মিরান্ডা, শৌভিক চক্রবর্তী সহ এই রহস্যের প্রধান অভিযুক্তদের অবস্থা এখন খুবই শোচনীয়। তারা সবাই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, যে, কত ধানে কত চাল!
তবে, এখানে আর একটা প্রশ্ন আছে, সেটা হল, এর পেছনে এরা ছাড়াও অন্য কোন বড় মাথা নেই তো? যে আড়ালে থেকে সব কাজ এদের দিয়ে করিয়ে নিয়েছে? আসল দোষী সেইই। এদের সাহস বাড়িয়েছে সে। এটা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। তবে, এমনটা সন্দেহ করছে তদন্ত সংস্থাগুলি।

সুশান্ত সিং রাজপুত মৃত্যু রহস্যের তদন্ত যতই ঠিকঠাক ভাবে এগোবে, ততই আরো অনেক কিছু ঘটার সম্ভাবনা থাকবে। সুশান্তের সাফল্য বলিউডের অনেক তারকার মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তাঁকে, বলিউড থেকে হটিয়ে দেওয়ার একটা চক্রান্ত হয়েছিল। যা এর আগে অনেক অভিনেতা - অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে হয়েছে। পরপর অনেকগুলো সিনেমা থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। যেটা সত্যিই অবাক করার মতো ঘটনা।
সুশান্ত সিং রাজপুত বলিউডের নোংরা রাজনীতির শিকার, এমনটাও মনে করছেন সুশান্ত অনুরাগীরা। তবে, এটা ঠিক যে, আসল সত্যিটা বেরিয়ে আসা কেবল সময়ের অপেক্ষা। সুশান্ত সিং রাজপুত গোটা দেশকে গর্বিত করেছিলেন। তাই, তাঁর মৃত্যু সবাইকে আঘাত করেছিল।

সুশান্তের রহস্যজনক মৃত্যুর সমাধান হবে কবে? কবে? কবে? এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তা জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে রয়েছে আপামর ভারতবাসী।

( তথ্য সংগৃহীত)

শিবব্রত গুহ
কলকাতা

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top