সিডনী বৃহঃস্পতিবার, ৬ই মে ২০২১, ২৩শে বৈশাখ ১৪২৮

বধির নিরবধি (পর্ব পাঁচ) : আসিফ মেহ্‌দী


প্রকাশিত:
১ অক্টোবর ২০২০ ১৪:৫১

আপডেট:
৬ মে ২০২১ ০৭:৩৬

 

(দেশসেরা দুই ফান ম্যাগাজিন ‘উন্মাদ’ ও ‘রস+আলো’তে লেখার সুবাদে আসিফ মেহ্‌দী রম্যলেখক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন আগেই। ‘বেতাল রম্য’ নামের প্রথম বইয়েই তিনি লাভ করেন তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা। তারপর একে একে প্রকাশিত তাঁর প্রতিটি বইয়ে ব্যঙ্গ আর হাসির সঙ্গে গভীর জীবনবোধের প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি শুধু পাঠকপ্রিয়তাই লাভ করেননি, তাঁর বইগুলো উঠে এসেছে বেস্ট সেলার বইয়ের তালিকায়। সেগুলোর মধ্যে 'বধির নিরবধি', ‘মায়া’, ‘অপ্সরা’, ‘তরু-নৃ’ অন্যতম। এছাড়া এনটিভিতে প্রচারিত তাঁর লেখা নাটক ‘অ্যানালগ ভালোবাসা’-র বিষয়বস্তুর জীবনঘনিষ্ঠতা দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছে। ‘ন্যানো কাব্য’ নামে একটি বিশেষ কাব্যধারার প্রবর্তক আসিফ মেহ্‌দী কবিতা প্রেমীদের কাছে ন্যানো কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা পঁচিশ।)

 

পর্ব পাঁচ

দিলারা ও ইনার বেশ ব্যস্ত দিন কাটছে। বাসাভর্তি মেহমান। বন্ধুমনা সংঘের সবাই সন্ধ্যার পর জড়ো হয়েছেন শওকত সাহেবের বাসায়। শওকত সাহেবের সমবয়সীগণ, যারা ভোরের জগিংয়ের সহযাত্রী এবং বিকেলের খেলাধুলার সঙ্গী, তারা মিলে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘বন্ধুমনা সংঘ’। সংগঠনের নামকরণ করেছেন এককালের দেশবরেণ্য আমলা, শওকত সাহেবের কলেজবন্ধু, আতাউর খান। অবশ্য প্রথমে নাম প্রস্তাব করেছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইমন আকন্দ। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা গতানুগতিক নাম থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। আমাদের সংঘের নাম আমি প্রস্তাব করছি- আমরা করব জয়!’

এই কথা শোনামাত্র জায়গায় বসেই আপত্তি তুললেন আতাউর খান। তিনি বললেন, ‘আমরা করব জয় শুনলেই কানে ভেসে আসে কচি বাচ্চাকাচ্চাদের কিচিরমিচির! আমরা কি কচিশিশু?’

তার কথায় কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন সবাই। ইমন নিজের ইজ্জত বাঁচাতে বললেন, ‘মানুষের বয়স হলে তো শিশুর মতো হয়ে যায়!’

‘শিশুর মতো হয়ে যায় কিন্তু শিশু তো আর হয় না! বয়স্ক মানুষের সংগঠনের নাম হওয়া উচিত, বন্ধুমনা বা সমমনা।’ তখন থেকে সংগঠনের নাম-বন্ধুমনা সংঘ। সেই ঘটনার পর জাঁদরেল আমলা ও ঘাঘু ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে দেখা হয়, কথা হয়, কুশল বিনিময় হয় কিন্তু সবই রস-কসহীনভাবে। তবে বাকিদের রসাল আড্ডার মাঝে সেটি আলাদা করে বোঝার উপায় নেই।

বন্ধুমনা সংঘের বর্তমান সদস্য চৌদ্দজন। এই চৌদ্দজন মিলে কয়েক বছর আগে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তা হলো, প্রতিদিন তারা ভোরের জগিং ও বিকেলের খেলাধুলার পাশাপাশি সন্ধ্যার পর চক্রাকারে একেকজনের বাসায় হাজির হয়ে আড্ডা দেবেন। সেই থেকে প্রত্যেকের বাসায় ক্রমানুসারে আড্ডা বসে। প্রতি বাসাতেই হালকা চা-নাশতার ব্যবস্থা করা হয়। কখনোবা রাতে ডিনারের আয়োজন করেন কেউ। আর উপলক্ষ্য থাকলে তো কথাই নেই। আজ শওকত সাহেবের বাসায় পোলাও-রোস্টের আয়োজন চলছে। দৃশ্যমান কোনো উপলক্ষ্য নেই। হঠাৎ সবাইকে তার ভালো খাওয়াতে ইচ্ছা হয়েছে-এটিই কারণ। তবে ইনা আঁচ করতে পারছে দাদাজানের এমন ইচ্ছার পেছনের কারণ কী; কিন্তু তা যে বলা বারণ। জীবনে প্রথমবারের মতো রোস্ট রান্না করেছে ইনা। মা একটু খেয়ে বললেন, ‘অসাম’।

মায়ের মুখে অসাম শুনে ইনা বিস্মিত হয়ে হেসে দিল। বিস্মিতমুখে হালকা হাসি ছড়ানো থাকলে ইনাকে যে আরও অপূর্ব লাগে, এ কথাটিও তাকে জানিয়েছিল তার জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া সেই প্রিয় আগন্তুক।

বয়জ্যেষ্ঠদের আড্ডা জমে উঠেছে। বিশিষ্ট সমাজসেবক কাজী শাহাদাত বললেন, ‘তিন নম্বর রোডের দেওয়ান সাহেবের কথা শুনেছেন?’

‘না তো, কী হয়েছে?’ বেশ কয়েকজন একসঙ্গে বলে উঠলেন।

‘তাকে অনেকদিন এলাকায় দেখি না। তাই ভেবেছিলাম, কী না কী হয়ে গেল বেচারার! আজকে তার বড় ছেলের সঙ্গে রাস্তায় দেখা। জানাল, তার বাবা নাকি রিটায়ারমেন্টের পর দেশভ্রমণে বের হয়েছেন। তিনি চাকরিজীবনের সব কলিগের একটি তালিকা বানিয়েছেন। সেই তালিকা দেখে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কলিগদের বাসা খুঁজে বের করেন, গল্পগুজব করেন, থাকেন, খান-দান, তারপর আবার নতুন কলিগের বাসার উদ্দেশে যাত্রা করেন।’

এটি শুনে শাহেদ বললেন, ‘বাহ, বেশ চমৎকার আইডিয়া তো! মরার আগে ইচ্ছাপূরণ। আমারও মনের মধ্যে একটু অন্যধরনের ইচ্ছা জেগেছে।’

সবাই নিশ্চুপ হয়ে গেল অন্যধরনের ইচ্ছা শোনার জন্য। শাহেদ জানালেন, ‘সারাজীবন তো গরীবই রয়ে গেলাম। তাই মরার আগে বড়লোক হতে খুব ইচ্ছা করছে!’

বেশ জোরে হেসে উঠলেন সবাই এবং ইমনের দিকে তাকালেন। বন্ধুমনা সংঘের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইমন আকন্দ। জাবির তো বলেই ফেললেন, ‘ইমন ভাই, আপনিই উত্তর দিয়ে দেন না, বেচারা কীভাবে বড়লোক হতে পারবে?’

ইমন হাসতে হাসতে বললেন, ‘বড়লোক হতে হলে যে স্টেজগুলো পার হতে হয়, সেগুলো অতিক্রম করার জন্য যে সময় দরকার, সেই সময় এখন শাহেদ ভাইয়ের হাতে নেই।’

‘কীসের স্টেজ?’ শাহেদ জিজ্ঞেস করলেন।

‘বড়লোক হতে হলে জীবনে অনেকগুলো স্টেজ পার হতে হয়। যেমন: অভিশাপ পেতে হয়। কষ্ট পেতে হয়। শরীরে অসুখ বাঁধার ব্যবস্থা করতে হয়...’

ইমন হাসতে হাসতেই কথা বলতে থাকলেন কিন্তু অন্যরা একদম চুপ হয়ে গেলেন। সবাই নিশ্চুপ হওয়ার কারণ-ইমন আকন্দের একটি কষ্টের কথা কারোরই খেয়াল ছিল না। ইমন আকারইঙ্গিতে মনে করিয়ে দিলেন, তাকে কষ্টের নানা ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে। সেসব কষ্টের মধ্যে যেটি সবাইকে নীরব করেছে, তা হলো-ইমনের অবারিত সম্পত্তি থাকলেও ভোগ করার জন্য কোনো উত্তরসূরি নেই।

অন্যদিকে, শাহেদের কষ্টের ধরন একদম উল্টো। বাসাভর্তি নাতি-নাতনি কিন্তু নিজের কোনো ব্যক্তিগত আয় না থাকায় তাদের কিছু কিনে দেওয়ার সামর্থ্য তার নেই। শাহেদ ও শাহেদপত্নী ছেলেদের সঙ্গেই থাকেন। ছেলেদের আয়েই তাদের খাওয়া-পরা চলছে। দিন চলে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু শখগুলো অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। গেল সপ্তাহে নাতনির জন্মদিনে একটি পুতুল উপহার দেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল শাহেদের। নাতনি দারুণ পুতুলভক্ত। দাদাভাইয়ের কাছে পুতুলের আবদার করেছিল। কিন্তু শাহেদ ছেলেদের বলেও পুতুল কেনার টাকা ম্যানেজ করতে পারেননি। একসময় স্কুলে পড়িয়ে টিউশন করে ছেলেদের লেখাপড়া করিয়েছেন। শেষজীবনে এসে অল্প যা অর্থসম্পদ ছিল, দুই ছেলের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। খাওয়া-পরা ছাড়াও জীবনে টুকটাক পয়সা দরকার, এটি তখন তার মাথায় ছিল না। কিছুদিন আগে শাহেদপত্নীর ষাটতম জন্মদিন গেছে। সেদিন সবার আড়ালে একাকী কেঁদেছেন শাহেদ। খুব ইচ্ছা ছিল, সারাজীবন সুখে-দুঃখে পাশে থাকা জীবনসঙ্গিনীকে মনের মতো কিছু উপহার দেবেন। মানুষ এখানেই খুব অসহায়। শুধু ইচ্ছা থাকলেই তা পূরণ হয় না, হাতে টাকাও থাকতে হয়। শাহেদ তার ইচ্ছাটির তীব্রতা ছেলেদের অনুভব করাতে সক্ষম হননি। দুই ছেলে বিষয়টিকে বুড়ো বয়সের ভিমরতি বলে হেসে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, চাইলেও তো একজনের জীবন অন্যজন যাপন করতে পারে না। সুতরাং, কীভাবে ছেলেপুলে বুঝবে শাহেদের মনের গহীনে কী চলছে? তার মনে বলছে, প্রিয় মানুষটির জন্মদিনে ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ জীবনে আর কখনো তিনি না-ও পেতে পারেন। সেই রাতে শাহেদ যখন চোখ বন্ধ করে নিজের বিছানায় শুয়ে ছিলেন, তখন হঠাৎ কপালে অনুভব করলেন তিনযুগ ধরে চেনা প্রাণপ্রিয় সহধর্মিনীর হাত। সুখ-দুঃখে জীবনসমুদ্র পাড়ি দেওয়া সহযোদ্ধার হাত। শাহেদপত্নী কপালে হাত বুলিয়ে বললেন, ‘তুমি ভেবেছ, আমি বুঝিনি? এখনো শিশুই রয়ে গেলে! উপহার আমার লাগবে না। তুমি মন থেকে চেয়েছে, এই চাওয়াটাই আমার সারাজীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।’   

যাহোক, শাহেদ বড়লোক হতে চান আর ইমন বড়লোক হওয়ার স্টেজগুলো বলা শুরু করাতে সবাই অপ্রস্তুত হয়ে নিশ্চুপ হয়ে গেছেন-এমন একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি অন্যদিকে নেওয়ার জন্য প্রবীণ সাংবাদিক জাবির বললেন, ‘ফরফর সাহেবের মৃত্যুর খবর তো শুনেছেন। কিন্তু চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো কি জানেন?’

দুই নম্বর রোডের ফরফর সাহেবের মৃত্যুর খবর সবার জানা। তিনি বেঁচে থাকাকালীন নানা অদ্ভুতুড়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকতেন। এ কারণে বন্ধুমনা সংঘে তাকে যুক্ত করা হয়নি। সম্প্রতি তার মৃত্যুর পর নানা ঝরঝরে ব্রেকিং নিউজ উদঘাটিত হচ্ছে দু’দিন পরপর। নতুন কোনো চমকপ্রদ তথ্য শোনার আশায় সবাই উন্মুখ হয়ে তাকালেন জাবিরের দিকে।

ফরফর সাহেবের আসল নাম ঢাকা পড়েছে তার বাচালতার কারণে। তার চটুলতা সবার কাছে তাকে এ নামেই পরিচিত করেছে। শেয়ার ব্যবসা করে জীবন পার করেছেন তিনি। তার বাসাতে গেলেই দেখা যেত, বিছানাভর্তি প্রাইমারি শেয়ারের ফরম ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। নানাভাবে প্রাইমারি শেয়ার করায়ত্ত করাই ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। শেয়ারমার্কেটে বড়সড়ো ধরা না খেলেও বিয়ের মার্কেটে বিশাল ধরা খেয়েছিলেন। সেই কাহিনির ওপর ভিত্তি করেই শোভন নাটক নির্মাণ করতে চায়, “শুভ বিবাহ নিয়ে এ কী ভয়াবহ কাণ্ড-দেখুন ভিডিওসহ”! প্রথম যৌবনে ফরফর সাহেব এক আত্মীয়কে নিয়ে কনে দেখতে গেলেন। কনে দেখার পর তার এতই বিয়ের তেজ উঠল যে তিনি বিয়ে করে তবেই ফিরবেন বলে পণ করলেন। পাত্রীপক্ষ সম্মত হওয়ায় সেই রাতে বিয়ে হলো। তবে বাসরপালংকে বউয়ের মুখ দেখে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। কনে হিসেবে যাকে দেখানো হয়েছে, বউয়ের সাজে তার বড় বোন! খুব একটা কাণ্ড ঘটিয়ে বেরিয়ে আসবেন, সেই উপায় ছিল না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কনেপক্ষের তাগড়া জওয়ান পোলাপান বাসরঘরের পাশের উঠোনেই বুকডনসহ নানা ক্যারিক্যাচারে ব্যায়ামরত ছিল। জনশ্রুতি আছে, ওই রাতের পর ফরফর সাহেবের ফরফরানি আরও বেড়ে যায়।

পছন্দের মানুষের সঙ্গে বিয়ে না হলেও তার কোনো আফসোস ছিল কিনা, সেটি জানা দুরূহ। কারণ, এ যুগেও তার চৌদ্দ সন্তান। তবে তার মৃত্যু হয়েছে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অযাচিত ঘটনার মাধ্যমে! গেল সপ্তাহে একটি কোম্পানির এজিএম বা বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নেওয়ার কথা বলে তিনি বিদায় নেন পরিবারবর্গের কাছ থেকে। পরে চান্দগাঁও থানার পুলিশবাহিনী তার লাশ উদ্ধার করে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে। রটে যাওয়া ঘটনা থেকে জানা যায়, পুলিশকে ফোন করে মৃত্যুর সংবাদটি প্রথম জানায় তার সঙ্গে থাকা এক মহিলা। তাই মরণের পরও তিনি নানা আলোচনার খোরাক হয়ে বেঁচে রয়েছেন। জাবির মহিউদ্দিন সাংবাদিক হওয়ায় পুলিশের সঙ্গে বেশ জানাশোনা আছে। তাই তার কাছ থেকে চমকপ্রদ কোনো তথ্য পাওয়ার আশায় সবার এত ব্যাকুলতা। জাবির বললেন, ‘ফরফর সাহেব হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন আপনারা জানেন। তবে সম্প্রতি জানা গেছে, তিনি হার্ট হ্যাটাক করেছেন ভায়াগ্রা খাওয়ার ফলে! অবশ্য আগে থেকেই নাকি তার হাইপারটেনশন ছিল।’

সবার মুখ কাচুমাচু হয়ে গেল। নায়াগ্রা জলপ্রপাত সেবনে গেছেন শুনলেও সবাই এতটা অপ্রস্তুত হতেন না; ঘরের বাইরে ভায়াগ্রা সেবন! পরিস্থিতি আরও পরিস্কার করলেন জাবির, ‘থানায় কল দিয়ে যে মহিলা মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন, তিনিই সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।’ এসব খবর কেউ জানতেন না। তাই সবাই চুপ হয়ে কাহিনি শুনছেন। জাবির বলে চললেন, ‘কাহিনি এখানেই শেষ না। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে অ্যানাকোন্ডা বের হয়েছে! পাঁচটি ভিন্ন জেলায় তার আরও ছয়জন পত্নীর সন্ধান মিলেছে। এমনও নাকি হয়েছে, এক গ্রামে জনৈক মহিলার সঙ্গে মেলামেশার সময় গ্রামবাসী সেই ঘর ঘেরাও করে ফেলে। তাদের পাকড়াও করে সেই স্থানেই কাজী ডেকে বিয়ে পড়িয়ে দেয়। আরও জানা গেছে, আরেকটি গ্রামে গিয়ে এক দরিদ্র পরিবারের সঙ্গে মাঝেসাঝে তিনি থাকতেন। সেই কৃষকের রূপবতী দুই কন্যা। আমাদের ফরফর সাহেব...’

আলোচনার এমন পর্যায়ে খাওয়ার জন্য ডাক পড়ল। খেতে বসেও আলোচনা চলতে থাকল। তবে এবারের আলোচনার বিষয়বস্তু নিরীহ। ভোজনরসিক এবং ভ্রমণরসিক তোফায়েল বললেন, ‘রোস্টগুলো সেইরকম স্বাদের হয়েছে! একেবারে হরিণের মাংসের মতো।’

‘খুব তো ভাব নিচ্ছ। খেয়েছ কখনো হরিণের মাংস?’

‘খেয়েছি মানে-তিনবার খেয়েছি! তাও আবার বরফের দেশে। মাংস টকটক! ভূনা খেতে হয়। দামে বেশ সস্তা।’

খাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। উৎসবমুখর হইচইয়ের মাঝে শওকত সাহেব চুপসে আছেন। বুকে বেশ ব্যথা অনুভব করছেন। খাওয়া-আড্ডা নিয়ে বাকিরা ব্যস্ত থাকায় তার একদম চুপ হয়ে যাওয়া কারও চোখে পড়েনি।  

চলবে

 

আসিফ মেহ্‌দী
কথাসাহিত্যিক ও প্রকৌশলী

 

বধির নিরবধি (পর্ব এক)
বধির নিরবধি (পর্ব দুই)
বধির নিরবধি (পর্ব তিন)
বধির নিরবধি (পর্ব চার)

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top