সিডনী বৃহঃস্পতিবার, ৬ই মে ২০২১, ২৩শে বৈশাখ ১৪২৮

বধির নিরবধি (পর্ব এগার) : আসিফ মেহ্‌দী


প্রকাশিত:
১২ নভেম্বর ২০২০ ১৫:০৬

আপডেট:
১২ নভেম্বর ২০২০ ১৫:০৮

 

(দেশসেরা দুই ফান ম্যাগাজিন ‘উন্মাদ’ ও ‘রস+আলো’তে লেখার সুবাদে আসিফ মেহ্‌দী রম্যলেখক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন আগেই। ‘বেতাল রম্য’ নামের প্রথম বইয়েই তিনি লাভ করেন তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা। তারপর একে একে প্রকাশিত তাঁর প্রতিটি বইয়ে ব্যঙ্গ আর হাসির সঙ্গে গভীর জীবনবোধের প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি শুধু পাঠকপ্রিয়তাই লাভ করেননি, তাঁর বইগুলো উঠে এসেছে বেস্ট সেলার বইয়ের তালিকায়। সেগুলোর মধ্যে 'বধির নিরবধি', ‘মায়া’, ‘অপ্সরা’, ‘তরু-নৃ’ অন্যতম। এছাড়া এনটিভিতে প্রচারিত তাঁর লেখা নাটক ‘অ্যানালগ ভালোবাসা’-র বিষয়বস্তুর জীবনঘনিষ্ঠতা দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছে। ‘ন্যানো কাব্য’ নামে একটি বিশেষ কাব্যধারার প্রবর্তক আসিফ মেহ্‌দী কবিতা প্রেমীদের কাছে ন্যানো কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা পঁচিশ।)

 

পর্ব এগার

ইফরা নাহিদের বাসা থেকে বের হয়েই তাহমিদ বায়না ধরল পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যাবে। ছোটবেলায় ইনা বাবা-মায়ের সঙ্গে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেছে। সেসব ছবিতে আছে কিন্তু স্মৃতিতে নেই। এ কারণে সমুদ্র দর্শনের সুপ্ত বাসনা তার মধ্যে ছিল। তাই তাহমিদের বায়নাকে ‘না’ করতে পারল না।

সিএনজি অটোরিক্সাতে ইনা ও তাহমিদ নিজেদের মাঝে খানিকটা দূরত্ব রেখে যে যার স্থানে আটোসাঁটো হয়ে বসে আছে; যেন আবার অপরিচিত হয়ে উঠেছে দুজন! বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সেই জ্যাম ঠেলে এগোচ্ছে অটোরিক্সা। বেশ কিছুক্ষণ নীরবতার পর তাহমিদ মুখ খুলল, ‘আমি একটা বড় অপরাধ করে ফেলেছি!’

আকস্মিক এমন কথায় ইনা অজানা আশংকায় চমকে উঠল। তার কী মনে হলো কে জানে, ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে ভালোভাবে দেখে নিয়ে আবার ব্যাগে ভরল! যা কাজ হওয়ার, ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। তাহমিদ অতি বিস্মিত মুখে থ হয়ে রইল। বলল, ‘ওটা কী?’

‘ছুরি চেনেন না বুঝি?’

‘তা তো চিনি। কিন্তু সঙ্গে ছুরি নিয়ে এভাবে ঘুরতে কাউকে দেখিনি!’

‘দেখেননি; আজ দেখলেন। আমার সঙ্গে ছুরি থাকে।’

তাহমিদ ভালোই ভড়কে গেছে। আমতা আমতা স্বরে বলল, ‘সঙ্গে ছুরি থাকা উত্তম। আজকাল যে দিনকাল পড়েছে! তাছাড়া আমি তো ভীতু প্রকৃতির; আমার সঙ্গে থাকলে ছুরি আপনাকে রাখতেই হবে।’

‘আশ্চর্য! আপনার সঙ্গে থাকছি কে বলল?’

‘সরি, বিশাল সরি। ভুল হয়ে গেছে। আপনি আমার সঙ্গে থাকছেন না; বরং আমি আপনার সঙ্গে থাকছি।’

‘কী আবোল তাবোল বকছেন! এখানে কেউ কারও সঙ্গে থাকছে না।’

‘জি, অবশ্যই। আমি দুনিয়াতে একা এসেছি, একা চলে যাব। কারও সঙ্গে চলাচলের কোনো ইচ্ছা আমার মধ্যে নাই।’ ভড়কে যাওয়ার কারণে তাহমিদের কথা কিছুটা অসংলগ্ন হয়ে উঠেছে। তবে ইনা বুঝতে পারছে না-এই ছেলে ফাজলামি করছে, না ভয়ে এমন করছে। সে চেঁচিয়ে উঠল, ‘স্টপ ইট!’

তাহমিদ একদম চুপ হয়ে গেল। একটি বিষয় ইনার কাছে পরিস্কার, এই ভীতু প্রকৃতির ছেলেকে দিয়ে শুধু লেখালেখিই সম্ভব। দেখতে হিরো মনে হলেও আসলে তোলাপোকার মতো আত্মা! এর সামনে ছুরি বের করা মানে ছুরির মানহানি করা। এর দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকালেই হার্ট বাইরে বের হয়ে ধুকপুঁক করবে। ইনা কঠিন সুরে বলল, ‘এবার বলুন, রাতে ঘুমের ঘোরে মাথা আপনার কাঁধে রেখেছিলাম না কী যেন বলছিলেন, তাতে সমস্যা কোথায়?’

তাহমিদ আমতা আমতা করে বলল, ‘জি না, কোনো সমস্যা নাই। চাইলে সারাজীবন কাঁধে মাথা রাখতে পারেন। যদি চান, আমার মাথায় কাঁঠাল ভেঙেও খেতে পারেন...’

‘বেশি কথা আমি একদম পছন্দ করি না।’

‘জি, আচ্ছা। আমি কি সিএনজি থেকে নেমে যাব?’

‘কেন নেমে যাবেন? সী-বিচে যেতে চাচ্ছিলেন, যাবেন না?’

‘ও! জি, যাব। আসলে ছুরি-টুরি দেখলে আমি কেন যেন স্বাভাবিক হতে পারি না।’

‘কী যে বলেন লেখক সাহেব! ছুরির চেয়েও কলম শক্তিশালী। আপনি সেটা নিয়ে কাজ করেন। ছুরি ভয় পেলে চলবে?’

‘তা ঠিক।’

‘একটু আগে বলছিলেন, কী বড় অপরাধ নাকি করে ফেলেছেন! সেটা শুনেই ছুরির কথা মনে হলো। অপরাধ যেখানে, আমার ছুরি সেখানে।’

‘না, না, তেমন কিছু না।’

‘বলতে হবে আপনাকে। বলুন কী অপরাধ?’

‘ভয় লাগছে।’

‘ভয়ের কিছু নাই। আপনি অসম্ভব ভীতু কিন্তু অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ। তাই ছুরি আপনার জন্য প্রযোজ্য না। এবার বলুন, কী অপরাধ করেছেন?’

‘ধন্যবাদ। অপরাধ মানে, দাদুর বাসা থেকে আমি মূল্যবান একটা জিনিস চুরি করেছি।’

‘কী বলেন! আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না। চুরি করার জন্য সাহস লাগে। আপনার সে সাহস আছে বলে তো আমার মনে হয় না।’

‘আসলে লেখালেখির জন্য আমি সব করতে পারি।’

‘তা কি চুরি করলেন লেখালেখির জন্য? বই?’

‘না, বই না।’

‘তাহলে?’

‘চিঠিটা আমি চুরি করেছি।’

ইনা নিজের রাগ দমন করে বলল, ‘কী বলেন! দাদাজানের গোপন চিঠি আপনি চুরি করেছেন? পঞ্চাশ বছর পর তিনি তার প্রেমিকাকে একটা চিঠি লিখে পাঠিয়েছেন আর আপনি সেটা চুরি করে নিয়ে আসলেন! এতটা পথ কষ্ট করে এসেছি এই চিঠি প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে আর আপনি প্রাপককে বঞ্চিত করলেন!’

‘আসলে লেখালেখির জন্য...’

‘এটা আপনি ঠিক করেননি।’

‘চিঠি পড়ার পর কিন্তু আমার মনে হয়েছে চুরিটা সার্থক!’

‘আপনি পড়েও ফেলেছেন?!’

‘জি। একবার না; তিনবার পড়েছি।’

‘কখন পড়লেন? আমি তো কিছুই টের পেলাম না!’

‘ওই বাসার টয়লেটে গিয়ে পড়েছি।’

‘কী বলছেন এসব! প্রেমের এমন অপূর্ব নিদর্শন আপনি টয়লেটের মধ্যে পড়েছেন! আপনি তো মানুষটা স্বাভাবিক না।’

‘দুঃখিত। তবে চিঠিতে যা লেখা আছে, তাও কিন্তু স্বাভাবিক না। কেমন যেন মনে হয়েছে! বারবার মনে হচ্ছিল, চিঠিতে যেন আমাদের কথাই বলা হয়েছে!’

‘মানে কী?’

‘মানে চিঠিটা পড়লে বুঝতে পারবেন।’

‘গোপন চিঠি পড়ার কোনো ইচ্ছা আমার নাই।’

‘মজার একটা তথ্য আমি চিঠিতে পেয়েছি। আপনার ইনা নামের রহস্য! শুনবেন?’

‘শুনব না। আমার মন খুব খারাপ লাগছে। যে চিঠি পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমি এতটা পথ কষ্ট করে এসেছি, সেটা আপনি চুরি করে বসে আছেন! এ কেমন কথা? আমি আপনার সঙ্গে আর কথাই বলব না।’

ইনা সত্যিই কথা বলা বন্ধ করে দিল। হালিশহর থেকে পতেঙ্গা যাওয়ার পথে জ্যাম লেগে আছে। সেই যানজটে বসে ইনা ও তাহমিদ কথা বলছিল। ইনা চুপ হয়ে যাওয়ায় সিএনজির ভেতরে দুই দিকে দুজন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো বসে রইল। সময় যেন দীর্ঘ ও ভারী হয়ে উঠল। একসময় জ্যাম কেটে গেল। সিএনজি ছুটে চলল পতেঙ্গার দিকে কিন্তু দুজনের কথা আর ছুটল না।

 

পতেঙ্গাতে নেমেই ইনা হাঁটা ধরল; যেন সৈকতের আদ্যোপান্ত তার চেনা। পেছন পেছন ছুটল তাহমিদ। বলল, ‘এই যে শুনছেন?’

‘কিছু তো বলছেন না যে শুনব!’

‘ভয়ে বলছি না।’

‘দেখুন, আমি মশকরা পছন্দ করি না। আগে ভয় পেয়েছিলেন, সেটা ক্ষমাযোগ্য। কিন্তু ছুরি ঢুকিয়ে রাখার পরও ভয় পাওয়ার অভিনয় করছেন, এটা কিন্তু আমার মেজাজ তুলে দিচ্ছে। আমি রেগে গেলে খবর আছে, বলে রাখলাম।’

‘কয়টার খবর? রাত আটটার নাকি রাত দশটার খবর? ইংরেজি খবর আমি আবার শুনি না। আটটার খবর হলে ভালো হয়।’

ইনা এবার সত্যি রেগে গেল। দুম করে ব্যাগ থেকে ছুরিটা আবার বের করে বলল, ‘বস, ওখানে।’

অস্ত্রধারী মানুষ যে কাউকে তুই-তোকারি করার অধিকার রাখে। তাই তাহমিদ কোনো উচ্চবাচ্য করল না। ইনা ও তাহমিদ যেখানে চলে এসেছে, সেখানে বড় বড় ব্লক। ইনার দেখানো একটি ব্লকের ওপর বসল তাহমিদ। ইনা বসল তাহমিদের পাশেই। সামনে সমুদ্র। অস্তায়মান সূর্য ধীরেধীরে যেন সমুদ্রগর্ভে ডুবে যাচ্ছে। দিনের আলো কমে আসছে। এমন ক্ষণে প্রকৃতিকে যেন পৃথিবীর মনে হয় না! অপার্থিব এই দৃশ্য একমনে দেখতে থাকল ইনা। তাহমিদের কথায় তার কল্পনায় ছেদ পড়ল, ‘কী বিশাল সমুদ্র দেখেছেন?’

‘আপনি এমন বোকা-বোকা কেন?’

‘কেন! আমাকে বোকা মনে হওয়ার কারণ?’

‘লেখালেখি করেন শুনে ভেবেছিলাম চালাক-চতুর হবেন!’

‘আমি যে বোকা নই, তার একটা প্রমাণ কিন্তু দিতে পারি।’

‘বোকা নন, এটা আবার প্রমাণ করতে চাচ্ছেন-এও তো একরকম বোকামি।’

‘যন্ত্রণায় পড়লাম তো! যা-ই বলছি, আপনি খারাপ ব্যবহার করছেন।’

‘আচ্ছা যান, দুঃখিত। আর খারাপ ব্যবহার করব না, যদি আপনি আমাকে তুমি করে বলেন।’

‘জি আচ্ছা, আপনি তাহলে আগে তুমি করে বলেন।’

‘আরে, আমি তুমি করে বলব কেন? আমি তো আপনার ছোট। আমি আপনি করেই বলব আর রেগে গেলে তুই করে বলব।’

‘আপনার যা ইচ্ছা, তাই করবেন।’

‘আবার আপনি করে বলছেন!’

‘সরি, সরি! আচ্ছা তুমি, ভালো আছো তুমি?’

‘জি, ভালো আছি।’

‘তুমি কি তুমি?’

‘আবার ইয়ার্কি!’

‘সরি, সরি! আমি তোমাকে আমার বুদ্ধির একটা পরিচয় দিতে চাচ্ছিলাম। বলব?’

‘জি বলুন, শুনি।’

‘তোমার নামের রহস্য আমি খুঁজে পেয়েছি!’

‘নামের আবার রহস্য কী? নামের থাকে অর্থ। নামের থাকে সার্থকতা। রহস্য মানে কী?’

‘রহস্য মানে রহস্য।’

‘কী রহস্য, বলুন।’

‘এ নামটা নিশ্চয়ই তোমার দাদা রেখেছেন।’

‘জি জনাব, দাদাজানই রেখেছেন।’

‘ইফরা নাহিদ নামটির শব্দ দুটোর প্রথম বর্ণ নিলে কী দাঁড়ায় বলো তো?’

ইনা কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে গেল। মৃদুস্বরে বলল, ‘আশ্চর্য!’

তাহমিদ বলল, ‘তোমার দাদাজান তার জীবনের প্রথম ভালোবাসার মানুষটির নামে তোমার নাম রেখেছেন।’

ইনা বলল, ‘আমি দুঃখিত।’

‘দুঃখিত কেন?!’

ইনা তাহমিদের পিঠে মৃদু কিল দিয়ে বলল, ‘আরে গাধা, তোমাকে বোকা-সোকা বলার জন্য। এটাও বোঝো না?’

ইনা তুমি করে বলাতে তাহমিদ যেন কিছুটা সাহসী হয়ে উঠল। ইনার একদম কাছে এসে আবৃত্তির সুরে বলল,

‘উপেক্ষা করতে পারি ক্ষুধা যৌবনেতে,

পত্রতৃষ্ণা না মিটিয়ে পারব না পথ যেতে!’

ইনা বিস্মিত হয়ে বলল, ‘আরে বাহ, ভালোই তো মিলিয়েছ। কিন্তু এতে আমি তৃপ্ত নই। উপযুক্ত কারণ দর্শাও, কেন প্রেমিকাকে লেখা দাদাজানের গোপন পত্র চুরি করলে?’

‘কেন চুরি করব না? পঞ্চাশ বছর প্রতীক্ষার পর একটি চিঠি লেখা হয়েছে পৃথিবী গ্রহের বুকে! অর্ধশতাব্দী অপেক্ষার পর একসময়ের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে কিছু লিখেছেন তার ভালোবাসার মানুষ! কী থাকতে পারে এমন চিঠিতে-সেটি জানার লোভ সংবরণ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ভাবলাম, এত বড় একটা ঘটনার সামনে দাঁড়িয়ে তাকে এভাবে অস্তাচলে চলে যেতে দেওয়া কি ঠিক?’

‘না, ঠিক না।’

‘আমিও নিজের হৃদয়কে প্রশ্ন করে একই উত্তর পেয়েছি। তুমি জেনে অবাক হবে, তোমার দাদাজান ভদ্রমহিলাকে ডাকতেন ইনা বলে!’

এ কথা শুনে ইনা কিছু বলল না। এই মুহূর্তে বৃষ্টি নেই কিন্তু চারদিকে আঁধার নেমে আসছে। সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন, বাতাসের আওয়াজ এক স্বপ্নালু পরিবেশ তৈরি করেছে। তাহমিদ বলল, ‘ইফরা দাদু তার খাটের পাশেই রেখেছিলেন চিঠি। তুমি যখন তাকে শোয়ানোতে ব্যস্ত, তখন আমি চিঠিটা নিয়েছি।’

এবার ইনা মুখ খুলল, ‘তুমি তো দেখি অসাধারণ চোর!’

‘বলতে পারো।’ বলে তাহমিদ নিজেকে জাহির করার মতো একটা ভঙ্গি করল।

ইনা সমর্থন দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল, ‘তুমি শুধু চিঠি না; মহামূল্যবান আরও কিছু চুরি করেছ আমার কাছ থেকে!’ নিজের মন চুরির দিকে ইঙ্গিত করার পরও তাহমিদের তা বোধগম্য হলো কিনা সন্দেহ। কারণ, মুখ গোমড়া করে সে বলল, ‘না, না, আমি এত খারাপ মানুষ না’!

রোমান্টিকতার প্রত্যুত্তরে এমন বেকুবমার্কা কথায় ইনার মুখ গোমড়া হয়ে গেল। তাহমিদ পকেট থেকে ভাঁজ করা চিঠি বের করল। এগিয়ে দিল ইনার দিকে। আলো আর আঁধারের ভাঁজে যে লগ্ন সেই ক্ষণে, এই মায়ামাখা সন্ধ্যায় চিঠির ভাঁজ খুলতে ইচ্ছা করছে না ইনার। রেখে দিল হ্যান্ডব্যাগে। স্বপ্নালু সায়াহ্নে যদি স্বপ্নের রাজকুমারের কাছে হৃদয়ের ভাঁজ খুলে দেখানো যেত! সব প্রকাশই এমন কঠিন কেন, মনে মনে ভাবল ইনা।

 

চলবে

আসিফ মেহ্‌দী
কথাসাহিত্যিক ও প্রকৌশলী

বধির নিরবধি (পর্ব এক)
বধির নিরবধি (পর্ব দুই)
বধির নিরবধি (পর্ব তিন)
বধির নিরবধি (পর্ব চার)
বধির নিরবধি (পর্ব পাঁচ)
বধির নিরবধি (পর্ব ছয়)
বধির নিরবধি (পর্ব সাত)
বধির নিরবধি (পর্ব আট)
বধির নিরবধি (পর্ব নয়)
বধির নিরবধি (পর্ব দশ)
বধির নিরবধি (পর্ব এগার)

 

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top