সিডনী শনিবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ই ফাল্গুন ১৪২৭

ধ্রুবপুত্র (পর্ব সতের) : অমর মিত্র


প্রকাশিত:
১৮ জানুয়ারী ২০২১ ১২:১৮

আপডেট:
১৮ জানুয়ারী ২০২১ ১৩:০৪

ছবিঃ অমর মিত্র

 

গন্ধবতী ভয় পেয়েছে।
রাজকর্মচারী উদ্ধবনারায়ণ কী ভয়ানক মানুষ! কী নিষ্ঠুর! কেমন বলে দিল, তার বাবা কার্তিক কুমার হূণ যুদ্ধে হত হয়েছেন। কেমন বলেছিল নিরুদ্দিষ্ট ধ্রুবপুত্র হূণ আশ্রয়ে আছে। অবন্তী দেশে প্রবেশ করলেই সে বন্দি হবে। হাসতে হাসতে বলছিল, ধ্রুবপুত্রের প্রাণদণ্ড হবে। প্রাণদণ্ড যদি মুকুব করা হয় দক্ষিণ হস্ত কর্তন করা হবেই। একটি চোখও উপড়ে নেওয়া যেতে পারে। দুটি পায়ের একটি অকেজো করেও দেওয়া যেতে পারে। এসব না হয়ে যদি প্রাণদণ্ডই বহাল থাকে তবে তাকে জনসমক্ষে পুড়িয়ে মারা হবে অথবা খণ্ড খণ্ড করে  শৃগাল, সারমেয় দিয়ে ভক্ষণ করানো হবে। বলতে বলতে হাসছিল উদ্ধবনারায়ণ। হাসতে হাসতে মাটিতে পদাঘাত করেছিল, কী সাহস ওই দূরাচারীর। শ্রেষ্ঠীর ভোগ্যা গণিকার দিকে হাত বাড়ায়। শ্রেষ্ঠীরই আশ্রয়ে থেকে তাঁর মেয়েমানুষে হাত! নির্বোধ ধ্রুবপুত্র।

গন্ধবতী নিশ্চুপ বসেছিল কুটিরের দাওয়ায়। কয়েক হাত দূরে তার মা রেবা। গন্ধবতীর মুখে রাজকর্মচারী উদ্ধবনারায়ণের কথা শুনে রেবাও ভয় পেয়েছে। উদ্ধব যে-কোনো উপায়ে গন্ধবতীকে অধিকার করতে চায়। সামনে যে কী দিন আসছে! গন্ধবতীকে যদি অপহরণ করে উদ্ধব, কে রক্ষা করবে? বৃদ্ধ পিতামহ শিবনাথ? রেবা মুখ নিচু করে ভাবছিল এসব। মাথা তুলে দেখল তাম্রধ্বজ আসছে। রেবা মুখ ঘুরিয়ে গন্ধবতীকে বলল, মুখটা মুছে নে, আচার্য বৃষভানুর আশ্রমের সেই তাম্রধ্বজ আসছে, যা বরং ধুয়ে আয়, তোর গালে চোখের জলের দাগ পড়েছে।

গন্ধবতী চট করে উঠে দাঁড়ায়। তার সর্বশরীর উত্তেজিত হয়ে ওঠে। ওই  তাম্রধ্বজ আসা মানে ধ্রুবপুত্র আর কার্তিককুমারের খবর বয়ে আনছে নিশ্চয়। তার মানে মিথ্যা হয়ে যাবে উদ্ধবনারায়ণের প্রচার। গন্ধবতী কয়েকদণ্ড দাঁড়িয়ে দেখল তাম্রধ্বজকে। না রাজবেশ তো নেই। টাঙ্গন অশ্বেও আসেনি দশার্ণ দেশের জ্যোতির্বিদ যুবক। হেঁটে আসছে, সঙ্গে  পিতামহ শিবনাথ। গন্ধবতী হিসেব করল, ঠিক একমাস বাদে এল তাম্রধ্বজ। অবাক হয়ে সে দেখছিল মোটা পশম বস্ত্র কাঁধে ফেলা উত্তরীয় গায়ে যুবকটিকে। নিষাদের মতো কী? পিতামহ তাই বলেছিলেন। তাম্রধ্বজের রূপে নিষাদের ছায়া আছে। তাইই তো! তাম্রধ্বজ এগিয়ে আসছে তাদের গৃহের দিকে। কই না তো? পিতামহ আসছেন। তাম্রধ্বজ পথ ধরে সোজা চলে গেল পশ্চিমে গম্ভীরার পথে। গন্ধবতী ঘুরে মাকে বলল, মা রাজার কুয়োর জল ফুরিয়েছে, রাজার দেওয়া জল নাকি চিরকাল থাকে, কখনো শুকোয় না, তাইতো শুনেছিলাম, কিন্তু কূপ তো শুকনো, শুধু বালি!

কথাটা শুনে রেবা অবাক হয়ে গেল, কী বলিস!
হ্যাঁ মা।
তুই কুয়োর ভিতরে কলস নামিয়েছিলি?
হ্যাঁ মা, এক ফোঁটাও নেই।

রেবার চোখমুখে কী রকম এক উদ্বেগের অন্ধকার ছায়া ফেলল, সে গায়ের উত্তরীয় টেনে, মাথার কাপড়টি বাড়িয়ে আঙিনায় নেমে এগিয়ে গেল। জল চৌকিখানি এনে আঙিনার মধ্যে রেখে একপাশে মাথা নিচু করে সরে দাঁড়াল। শিবনাথ এসে বসল, বলল, তাম্রধ্বজ গেছে গম্ভীরায়, আসবে এখনই। 

দিনমানে আসতে পারে না, অন্ধকার হয়ে যাবে এখনই, কত সময় কথা বলবে! রেবা বলে।

হাসে শিবনাথ, ও বলে আকাশে যদি তারা না জ্বলে, কোনো কথাই বলতে ভালো লাগে না, গ্রহ তারাদের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারে ও ভালো, যার যেমন! তবে ও নাকি অন্ধকারেও  দেখতে পায়!

কী বলছেন!

হ্যাঁ অন্ধকারে হেঁটে যেতে ওর কোনো অসুবিধা হয় না, ওতো দশার্ণ দেশ থেকে হেঁটেই এসেছিল উজ্জয়িনীতে, তখন ছিল বসন্ত, ও বলে বসন্তের রাতে পথ হাঁটা ছিল এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা, রাতেই হাঁটত বেশি, দিনে বিশ্রাম নিত, চৈত্রমাসের রোদ তো কঠিনও নিশ্চয়।

রেবা যেন কী ভাবছিল, বলল, কোন বসন্তে এসেছিল উজ্জয়িনীতে?

হতে পারে যে বসন্তে ধ্রুবপুত্র গেল।

রেবা অস্ফূটম্বরে বলল, চৈত্রপূর্ণিমার রাতেই চলে গেল ধ্রুবপুত্র।

হ্যাঁ, কেমন নীরব হয়ে যেতে লাগল শিবনাথ, ঠিকই মনে করেছ, ধ্রুবপুত্র যাওয়ার মানে সব চলে যাওয়া, তবে তাম্রধ্বজও জ্ঞানী।

রেবা নিশ্চুপ তাকিয়ে আছে পথের দিকে। এল নাকি তাম্রধ্বজ গম্ভীরা ঘুরে? ধ্রুবপুত্রও গম্ভীরার তীরটি ভালবাসত। শিবনাথ বলল, জানো মা, ও বলে রাতে হাঁটলে নাকি গাছের কথা শোনা যায়, একটা গাছ আর একটা গাছকে ডাকে, তাম্রধ্বজ অদ্ভুত!

তখন রেবা ফিরল গন্ধবতীর কথায়। বলল, জানেন  রাজার কুয়ো শুকিয়ে গেছে।

সে কী! কে বলল?

আপনার নাতনি।

কী সব্বোনাশ, জল কে দেবে তাহলে?

রেবা বলে, গম্ভীরা, বালি খুঁড়তে হবে বাবা।

মাথা ঝাঁকাতে লাগে শিবনাথ, এমন কখনো হয়নি, অনাবৃষ্টি কি নতুন কিছু!

রেবা বলল, উদ্ধবনারায়ণ ধরেছিল সুগন্ধাকে।

শিবনাথ বসে পড়ল মাটিতে, এ কী বলছ তুমি!

স্পর্শ করতে পারেনি, মেয়ে পালিয়ে এসেছে, আপনি কি উদ্ধবকে কথা দিয়েছেন?

না তো, খলপ্রকৃতির পুরুষ ও, ওকে কথা দেব কেন? তুমি রাজি হলেও আমি রাজি ছিলাম না।

রেবা বলল, মেয়ে বিয়ের মতো হয়ে উঠেছে, তাই হ্যাঁ বলেছিলাম, কিন্তু ওতো খল, কিন্তু রাজকর্মচারী, ও যদি অপহরণ করে, আমার ভয় করছে বাবা।

শিবনাথ রেগে ওঠে, অপহরণ করবে, বললেই হলো, দেশে রাজা নেই, আমি যাব রাজার কাছে।

রাজকর্মচারীর বিরুদ্ধে রাজার কাছে অভিযোগ জানালে কী লাভ হবে বাবা, রাজকর্মচারীর দোষ রাজা কি দেখবেন? অন্য রাজকর্মচারীরা তো উদ্ধবকে রক্ষা করবে, রাজার কর্মচারীর কোনোদিন শাস্তি হয় শুনেছেন?

শিবনাথ চুপচাপ শুনছিল রেবার কথা। কথা অসত্য নয়। রেবা খুব যুক্তিপূর্ণ কথা বলে। এই যে স্বামী ফেরেনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে, পাঁচটি বছর চলে গেছে, কখনো রেবা ভেঙে পড়েনি, পথের দিকে চেয়েই দিনপাত করছে।

গোধূলি শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তখন তাম্রধ্বজ এসে দাঁড়াল প্রাঙ্গণে! ডাকল অনুচ্চ কণ্ঠে, রেবা মা।

কে-এ-এ! চমকে ওঠে রেবা। কার কণ্ঠস্বর!

রেবার সামনে এসে দাঁড়াল তাম্রধ্বজ, আমি আচার্য বৃষভানুর আশ্রমের তাম্রধ্বজ, আমাকে কি বিস্মৃত হলেন আপনি?

রেবা ত্রস্ত পায়ে সরে দাঁড়ায়, মাথার উত্তরীয় টেনে বলল, তুমি যে মা বলে ডাকবে তা তো আমি ভাবিইনি, সুগন্ধা এই দ্যাখ, সেই জ্যোতির্বিদ এসেছে, বাবা তুমি দাঁড়াও, আমি আসন আনি।

আসন নিয়ে এল গন্ধবতী। আর একটি জলচৌকি আঙিনায় রেখে দূরে সরে দাঁড়াল। রেবা আনল জলপাত্র। শিবনাথকে ডাকল, জল এনেছি বাবা, মুখ-হাত ধুয়ে নিন, তাম্রধ্বজ তুমিও নাও, তুমি  যখন আসো, সূর্যদেব আকাশে থাকেন না তুমি নাকি রাত্রিকে পছন্দ করো।

হাসে তাম্রধ্বজ। রাত্রি কে পছন্দ করে, যে নিশাচর সে, আমি অবাক হয়ে যাই রাত্রির আকাশ দেখে, এখন তো কৃষ্ণপক্ষ, কুয়াশাও কমেছে অনেক, দেখুন এর ভিতরে আকাশ কীভাবে ঝলমল করে উঠছে, আকাশ যে এত সুন্দর তা সূর্যের আলো না নিভলে কী করে বোঝা যেত?

কথাটা শেষ হলে রেবার সঙ্গে গন্ধবতীও তাকায় আকাশে। আকাশ ক্রমশ অলঙ্কৃত হচ্ছে নক্ষত্র মালায়। গন্ধবতীর সঙ্গে রেবাও মাথা নামায়। তাম্রধ্বজ আকাশেই তাকিয়ে। মা মেয়ে দশার্ণ দেশের যুবকটিকে দেখছিল।

গন্ধবতী বলল, মা দুধ ফোটাবে না?
হ্যাঁ, জিজ্ঞেস করি।
গন্ধবতী চাপা গলায়, বলল, জিজ্ঞেস করতে হবে না। পথ তো অনেক, হেঁটে এসে নিশ্চিত ক্ষুধার্ত হয়েছেন উনি।

হ্যাঁ যাই! বলেও দাঁড়িয়ে থাকল রেবা। তাম্রধ্বজ আরো একটু বাদে চোখ নামায় আকাশ থেকে। হাসল মা, মেয়ের দিকে চেয়ে। বলল, আজ তো কৃষ্ণা তৃতীয়া, চাঁদ উঠে যাবে আমি রওনা হবো, চাঁদের আলোয় আলোয় পৌঁছে যাব।

গণনা সম্পূর্ণ হয়েছে? চাপাগলায় জিজ্ঞেস করে রেবা।
হবে মা, কিন্তু আমি তো সবটা জানতে পারিনি সেই দিন, এর আগে যে দিন এলাম।
একটি মাস আগে, পৌষ মাসের কৃষ্ণা পঞ্চমী ছিল সেদিন। বলল গন্ধবতী
চমকে মেয়ের দিকে তাকায় রেবা। তার তো মনে নেই দিনক্ষণ, মেয়ে মনে রেখেছে। রাখবেই তো। তাম্রধ্বজ যে খবর আনবে ধ্রুবপুত্রের, কার্তিককুমারের। তাম্রধ্বজ আবার আকাশ দেখল, তারপর রেবাকে বলল, মা তোমার কন্যাটির মন অতি কোমল, শুদ্ধ, আলোর মতো প্রায়, তার স্মৃতিও প্রখর, আর কী জান?

রেবার মুখে হাসি ফুটল। আচমকা তাম্রধ্বজ তাকে নিয়ে প্রসঙ্গ অবতারণায় গন্ধবতী কুঁকড়ে যায়, একটু পিছিয়ে যায় আঙিনার অন্ধকারে। যাতে কথাগুলো শোনা যায় অথচ তাকে না দেখতে  পায় তাম্রধ্বজ। আচার্য বৃষভানুর শিষ্য বলছে, তোমার কন্যাটি সুলক্ষণা, তার স্নিগ্ধতাও অপরিসীম, সে যদি চায় গ্রহ যতই বিরূপ হোক নিরুদ্দিষ্ট জন তার কাছে ফিরে আসবেই, আমি ধ্রুবপুত্রের কথা বলছি।

গন্ধবতী এগিয়ে এল। সে টের পেল পরের কথাটি বলতে গিয়ে তাম্রধ্বজ নিজেকে ঘুরিয়ে নিল। নিয়ে যেন নিজের ভার থেকে নিজে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করল। অথচ গন্ধবতী নিজে টের পাচ্ছে তাম্রধ্বজ আরো ভারী হয়ে গেছে। কী কথা বলতে চেয়েছিল সে? কোনো দুঃসংবাদ কি আবিষ্কার  করে তাকে শান্ত করতে চাইছে তাম্রধ্বজ? তার গুণগান করে আড়াল করতে চাইছে দুঃসংবাদটিকে? সংবাদটি কি ধ্রুবপুত্রকে ঘিরে?

গন্ধবতী জিজ্ঞেস করল, আমার পিতার কোনো খবর পেলেন আপনি?
তাম্রধ্বজ বলে, আসলে যত সময় যায় তত আবছায়া হয়ে যায় সব।
আপনি কী জেনেছেন?
তাম্রধ্বজ বলে, ধ্রুবপুত্রের সেই নিষ্ক্রমণের দিনের কথাটি তুমি আমাকে শুনিয়েছিলে, তোমার পিতারটা শুনেছিলাম তোমার মায়ের কাছে।
তাতে কী হলো, আপনার গণনা কী বলছে?
তাম্রধ্বজ আকাশে তাকায়। একটি বিষয় নিয়ে ভেবে দেখি বরং, আচ্ছা মা রেবা তুমি থাকো, কিন্তু পিতামহ কি থাকবেন?
শিবনাথ উঠে দাঁড়ায়।বলে, আমি ক্লান্ত, তুমি কথা বলো; আমি তো সবই জানি। আবার কী শুনব।
গন্ধবতী জিজ্ঞেস করে, ঠাকুর্দা সব জানেন?
হ্যাঁ জানেন, আজ আশ্রম থেকে হেঁটে আসার পথে সব বলেছি।
কী বলেছেন?
তাম্রধ্বজ বলল, তুমি যে কথা বলেছিলে, সেই চৈত্র পূর্ণিমার রাতের কথা।
গন্ধবতী মাটিতে ধুলোর উপরে বসে পড়েছে। তার গায়ে নিজের গায়ের পশম চাদরটি চাপা দিল রেবা, বলল, আমি বরং তোমার জন্য দুই ফোটাই।
তুমি শুনবে না?
মেয়ের কাছে শুনে নেব।

মাথা নাড়ে তাম্রধ্বজ, আমি ক্ষুধার্ত নই। মা তুমি বসো, মেয়ে গন্ধবতী এই তাম্রধ্বজ যা বলেছে তা তো তোমাকে পুনর্বার বলতে পারবে না, আর এই দশার্ণ দেশীয় মানুষ যা বুঝেছে তাও মেয়ে তোমাকে স্পষ্ট করে বলতে পারবে না--!

গন্ধবতী অবাক হয়ে যাচ্ছিল। কী জেনেছে গণনায় এই পুরুষটি? সে মাথা নিচু করে বসেছিল? তখন তাম্রধ্বজ তার কথা আরম্ভ করল। শোনো মা, যদি দিনক্ষণ ঠিক পাই, যা ঘটেছিল তা হুবহু শুনতে পাই, চোখের সামনে তা যদি হুবহু ভেসে ওঠে, তাহলে তো সবকিছুই খুঁজে পাওয়া যায়।

গন্ধবতী চাপাগলায় বলল, আপনি আমার বাবার কথা বলুন।
আমাকে আমার কথা শেষ করতে দাও।
গন্ধবতী বলল, ধ্রুবপুত্রের কথা শুনতে চাই না, আমার বাবা কোথায় গেলেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে, সেই কথা বলুন।

তাম্রধ্বজ বলল, তুমি যতটা ছবির মতো আভাস দিয়েছ আমাকে, মা ততোটা দেননি, তুমি তো আমাকে সেই চৈত্র পূর্ণিমার রাতে গম্ভীরা নদীর ধারে নিয়ে গিয়েছিলে গন্ধবতী, মনে পড়ে সেই কামদেবের মন্দির থেকে ফেরার কথা, গৃহবন্দি হয়ে আছে সখা ধ্রুবপুত্র।

গন্ধবতী চাপা গলায় যেন ফোঁস ফোঁস করে ওঠে, আমি ওসব আর মনে রাখতে চাই না হে দশার্ণ দেশের মানুষ, আমার পিতা কার্তিককুমারের কথা বলুন, আমার আবছা মনে পড়ে সব। কুয়াশায় যেমন ঢেকে গিয়ে প্রকৃতি তার আভাসটুকু জাগিয়ে রাখে পিতা তেমনই রেখেছেন, মনে পড়ে তিনি সুগন্ধা সুগন্ধা। ডাক দিলেন, আমি ছুটে গেলাম তাঁর কোলে...।

সব সত্য তো প্রকাশিত হয় না একদিনে, আমাকে তুমি বলতে দাও ধ্রুবপুত্রের কথা, তুমি যেমন বলেছিলে চৈতী পূর্ণিমায় মদনোৎসবের কথা, তেমনই বলছি আমি, তারপরও কিছু কথা থাকবে আমার।

গন্ধবতী উঠে দাঁড়াল। ধ্রুবপুত্র যাক, হারিয়ে যাক। হূণ আশ্রয়ে যাক। তার জন্য আমার কত অসম্মানই না হলো। আমাকে সে না বুঝে গণিকায় মত্ত হলো, গণিকার কাছে, শ্রেষ্ঠীর কাছে অসম্মানিত হয়েও আমার দিকে ফিরল না, চলে গেল অবন্তী ছেড়ে। আপনি কার্তিককুমারের কথা বলুন। আমার পিতার কথা কী জেনেছেন গণনায়! বলতে বলতে গন্ধবতী অন্ধকারে আড়াল হলো। 

চলবে

 

ধ্রুবপুত্র (পর্ব এক)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব দুই)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব তিন)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব চার)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব পাঁচ)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব ছয়)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব সাত)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব আট)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব নয়)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব দশ)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব এগার)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব বারো)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব তের)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব চৌদ্দ)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব পনের)
ধ্রুবপুত্র (পর্ব ষোল)

এই লেখকের অন্যান্য লেখা



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top